মেইন ম্যেনু

গাজীপুরে আ.লীগের দু’পক্ষে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১০

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয়েছে কমপক্ষে ১০ জন।

শনিবার বেলা ১১ টার পর থেকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দুপুর ২টার দিকে নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় কাপাসিয়া শাখা সাউথইস্ট ব্যাংকের গ্লাস ভাঙচুর করে নেতাকর্মীরা।

কাপাসিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি মুহম্মদ শহীদুল্লা ও বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান আরিফের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কাপাসিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফসহ ১০ জনকে আটক করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে আরিফ গ্রুপের লোকজন কাপাসিয়া বাজারে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে মিছিল বের করে। মিছিলটি বাজারের ভুঁইয়া মার্কেটের গলি আরিফ হোসেনের অফিসে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মিছিল শেষে তারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।

এ খবরে মুহম্মদ শহীদুল্লার নেতৃত্বে একদল লোক ওই অফিসে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আরিফ পক্ষের লোকজনের হামলায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন প্রধানসহ কয়েকজন আহত হন।

পরে শহীদুল্লাহ পক্ষের লোকজন আরিফের অফিসের সামনে রাখা ৬/৭টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। তারা লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে আরিফ সমর্থিকদের ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে আরিফ সমর্থকরা বাজারের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে আরিফ বাজারের সাউথইস্ট ব্যংকে আশ্রয় নিয়েছে খবরে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সমর্থিতরা ওই ব্যাংকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ কাপাসিয়ার পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকার আবুল আক্তারের মার্কেট থেকে দুপুর ১ টার দিকে আরিফসহ তার সহযোগীদের আটক করে।

সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটিডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড ব্রাঞ্চ মুহিবুর রহমান বলেন, ‘আমি ব্যাংকে ছিলাম না। শুনেছি আওয়ামী লীগের দুপক্ষের লোকজন মার্কেটের দোতলায় সাউথইস্ট ব্যাংকের বেশ কতগুলো দামী থাই গ্লাস ভাঙচুর করেছে।’

কাপাসিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শাহিয়ার আল-মামুন জানান, ইটপাটকেল নিক্ষেপে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান উল্লাহ, উপ-পরিদর্শক এম আবু সিদ্দিক, বাচ্চু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কোনো প্রকার লাঠিচার্জ বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে হয়নি।

এএসপি জানান, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় আনিছুর রহমান আরিফ, তার সহযোগী অলক কুমার দাস, কায়সার, মাহবুব, রাসেল, সায়েম, বিপ্লব, রাসেল, রাজীব, রাকিব, ফরহাদসহ মোট ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মামলা রুজু হলে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

এএসপি আরো জানান, বেলা ১১ টার দিকে স্থানীয় এমপি সিমিন হোসেন রিমির কাপাসিয়া উপজেলা ডাকবাংলো উদ্বোধনের কমসূচি ছিল। তিনি এ ঘটনার সময় কাপাসিয়া ছিলেন। আওয়ামী লীগের আরিফ হোসেনের গ্রুপটি এমপির বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি পালনের সময় কাপাসিয়ায় অচলাবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। হামলা সংঘর্ষের ঘটনার পর এমপি দুপুরে কাপাসিয়া উপজেলা ডাকবাংলো উদ্বোধন করেন।

কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ জানান, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক মিছিল চলাকালীন বহিষ্কৃত আনিছুর রহমান আরিফের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আতর্কিত হামলা করে।

আনিছুর রহমান আরিফ জানান, সভা চলাকালীন ন্যাক্কার জনকভাবে আমাদের ওপর তারা হামলা চালায়।






মন্তব্য চালু নেই