মেইন ম্যেনু

‘গাজায় হামলায় মুসলিম বিশ্বেরও হাত রয়েছে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেছেন, ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনের গাজায় নৃশংস হামলায় পশ্চিমা বিশের চেয়ে মুসলিম বিশ্বই বেশি দায়ী। শুধু পশ্চিমা বিশ্বকেই দোষ দিলে হবে না, এই হামলায় মুসলিম বিশ্বেরও হাত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ঢাবি শিক্ষক সমিতি আয়োজিত গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এ কথা বলেন।

সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “যখন বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী সন্ত্রাসী নিহত হয় তখন পশ্চিমা বিশ্ব মানবতার কথা বলেন। অথচ গাজায় মানবতা বিপর্যয়ে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে তারা।”

ওআইসির ভূমিকার সমালোচনা করে ড. ফরিদ বলেন, “গাজা হামলায় অসংখ্য মানুষ হত্যা করা হলেও ওআইসি নিরব ভূমিকা পালন করছে। তারা এর কোনো প্রতিবাদ না করে উপরন্তু ইসলাইলের বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে তাদেরকে যুদ্ধে সহযোগিতা করছে।”

অধ্যাপক ফরিদ বলেন, “গাজায় ইসরাইল চার হাজার ৭৬২বার বিমান হামলা করেছে। এতে ১৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৩২ হাজার বাড়িঘর ধবংস এবং এক হাজার ৯৬৩জন শিশু নিহত হয়েছে। নিহতদের ৭৫শতাংশ নারী ও শিশু। এর মধ্যে শুধু শিশুই ২৩শতাংশ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

ঢাবির সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বলেন, “গাজা হামলায় শুধু নিন্দা না জানিয়ে সকলের উচিত ইসরাইলের প্রতি ধবংসকৃত ক্ষয় ক্ষতির পুণনির্মাণে ইসরাইলকে আর্থিক সহায়তা দানে বাধ্য করা।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যার সময় পশ্চিমা বিশ্ব যেমন নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করেছে, আজও গাজা হামলায় তারা একই ভূমিকা পালন করছে।”

অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান বলেন, “গাজা হামলায় শান্ত কথা বলার মতো অবস্থা আর নেই। শুধু নিন্দা জানালেই হবে না একে সমর্থন দিয়ে যারা বিল পাস করেছে এখন থেকেই তাদের প্রতিহত করতে হবে।”

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, “ইসরাইল এর আগে গাজায় যতবার হামলা করেছে, এবারের হামলার উদ্দেশ্য তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। গাজাকে নিশ্চিহ্ন করতে চায় ইসরাইল। আমরা পশ্চিমা বিশ্বের নীরবতা নিয়ে হতবাক।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “গাজায় দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইল যে গণহত্যা চালাচ্ছে এ যুদ্ধাপরাধ। ইসরাইলকে যারা অর্থ ও অস্ত্র যোগান দেয় তাদের রুখে দিতে হবে।”

ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক ড. ফখরুল আলম, অধ্যাপক ড. সুকমল বড়ুয়া, অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূইয়া, অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক ড. আখতার হোসাইন, অধ্যাপক ড. অসীম কুমার সরকার, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের অ্যাম্বাসেডর শাহের মুহাম্মদ, ইরানীয় অধ্যাপক ড. ইরান জাদেদসহ ঢাবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।






মন্তব্য চালু নেই