মেইন ম্যেনু

ক্লু উদঘাটনে চলছে নানা নাটকীতা ॥ হতাশ স্বজন হারা পরিবারগুলো

গত ১ বছরে বেনাপোলে প্যানেল মেয়র তুহিনসহ ৩ জন অপহরন

বেনাপোল পৌর সভার প্যাণেল মেয়র উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তারিকুল আলম তুহিন এবং বেনাপোল পোর্ট থানা বাহাদুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আলী আকবারকে অপহরন ও পৌর আওয়ামীলীগের তথ্য ও আইন বিষয়ক সম্পাদক ইববাদত হোসেনকে অপহরন করে গুম ও খুনের ঘটনায় প্রশাসন কোন তথ্য উদঘাটনসহ উদ্ধার বা কাউকে আটক করতে পারেনি। অপহরন, গুম ও হত্যা ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকসহ অপহৃতদের উদ্ধার ও কোন ক্লু-বের করতে পারেনি পুলিশ সহ প্রশাসনের সদস্যরা। শার্শা-বেনাপোলে সর্বত্রই হত্যা, অপহরন ও গুম আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। আপন জনকে না পেয়ে অজানা আতংক, উৎকন্ঠা, হতাশা এবং অমানবিক দিন কাটাচ্ছে অপহৃতদের পরিবারগুলো। অপহৃতদের উদ্ধারের দাবীতে মিছিল মিটিং ও অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে উদ্ধার হয়নি তুহিন ও আলী আকবার। পরিবারগুলোতে চলছে চাপা ক্ষোভ ও বুকফাঁটা আহাজারি। তুহিন নোখোঁজের সময়ে গর্ভবতি স্ত্রী সালমা আলম ফুটফুটে পুত্র সন্তান লাভ করলেও পিতা-পুত্র কেউ কারোর মুখ আজও দেখতে পায়নি। আদৌ ফিরবে কি স্বামী তুহিন! পুত্র দেখতে পাবেকি তার পিতাকে ছলছল চোখে করুন কন্ঠে বলেন স্বামী হারানো স্ত্রী সালমা। একই কথা আলী আকবারের স্ত্রী আনজুয়ারা বেগমের। তাদের নির্ঘুম চোখে স্বামী হারানো বেদনা বোঝানোর নয়। ইবাতদ হোসেনের পরিবার প্রভাবশালী মহলের ভয়ে রয়েছে নির্বাক। প্রশাসন ও মিডিয়ার কাছে কোন কথা বলতে সাহস পাচ্ছেনা পরিবারের সদস্যরা। অভ্যান্তরিন দলীয় কোন্দলসহ আধিপত্ত বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ১বছরের ব্যাবধানে ৩টি অপহরন গুম ও ১ ডজন হত্যার ঘটনা ঘটেছে স্থল বন্দর নগরী ও পৌর শহর বেনাপোল এলাকায়। দিন দিন বেড়েই চলেছে খুন, অপহরন ও গুমের ঘটনা। প্রশাসন একটি ঘটনাও উদঘাটিত করতে পারিনি। হত্যা অপহরন ও গুমের সাথে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে দুষছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। স্বামী ও সন্তান হারা পরিবারে চলছে শোকের মাতম। প্যানেল মেয়র তুহিন দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকায় দু’পক্ষের দলীয় কোন্দলে পৌর উন্ননয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ২০১৩সালের ৭মার্চ ঢাকার ন্যামফ্লাটের সামনে থেকে অপহৃত হয় তুহিন। ২৮ মে ঢাকার গাবতলীর একটি হোটেল থেকে অপহৃত হয় আলী আকবার ও তার এক বন্ধু, ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল বেনাপোলের নিজ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অপহৃত হয় ইবাদত হোসেন। দুর্বৃত্বদের নির্যাতনে ১৭দিন পর তার মৃত্যু হয়। এদিকে শার্শা সদরের সাবেক চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন তোতা, পটুখালির তবি মোড়ল ও কন্যাদাহের রিজাউলসহ অর্ধশত মানুষ দৃর্বত্তদের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। শার্শা-বেনাপোলে আইনশৃঙ্খলা এক পর্যায়ে ভেঙে পড়েছে বলেলই চলে। নিরাপত্বাহীনতাই ভুগছে বেনাপোলের অধিকাংশ পরিবার। প্রশাসন নির্বাক রয়েছে। অপহৃত পরিবারের অভিযোগ দীর্ঘদিনেও কোন খোজ খবর নেয়নি পশাসনসহ জনপ্রতিনিধিরা। তাদের সংসারে চরম দুরবস্থা নেমে এসেছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে প্যাণেল মেয়র তুহিনের স্ত্রী ছালমা আলম সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী ১৪ মাস ধরে নিখোঁজ। তাকে র‌্যাবই অপহরণ করেছে। এর পেছনে হাত রয়েছে বেনাপোল পৌর মেয়র এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটনের। গত বছরের ৭ মার্চ সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে রাজধানী ঢাকার ফার্মগেট এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। ওই দিন তুহিন শেরে বাংলা নগরের ন্যাম ফ্ল্যাটের যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আফিল উদ্দিনের বাসা থেকে বের হন। তারপর তাকে আর পাওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছালমা আলম আরো বলেন, বেনাপোল পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন না হওয়ায় তার স্বামী প্যানেল মেয়র তুহিন প্রতিবাদ করার কারণে মেয়র লিটনের আক্রোশের শিকার হন। এর ফলে গেল বছর ৪ ও ৫ মার্চ যশোর র‌্যাব-৬ সদস্যরা গভীর রাতে তাদের বাড়ি ঘেরাও করে তালা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়। পর দিন তার স্বামী র‌্যাবের ভয়ে ঢাকায় চলে যান। সেখান থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনার পর শেরেবাংলা নগর থানায় গত বছরের ১৩ মার্চ একটি মামলা করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তের জন্য মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন তার স্বামী নিখোঁজের ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা করেনি। থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা এলেও তা কার্যকর করেননি তৎকালীন বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি। ছালমা আলম তার স্বামী নিখোঁজের ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। সাংবাদিক, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের সকল স্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে তার স্বামীকে উদ্ধারের জন্য সহযোগিতা কামনা করেন। আওয়ামীলীগ নেতা আলী আকবারের স্ত্রী আনজুয়ারা বলেন, স্বামাী হারিয়ে আমার পরিবার আজ অন্ধকুপে পরিনত হয়ছে। জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন কোন দিনও খোজ খবর নেয়নি। সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। ইবাদত হোসেনর ৪র্থ শ্রেনীতে পড়–য়া পুত্র দিপ্ত হোসেন বলেন, আমরা বাবাকে হারিয়ে আমার লেখা-পড়া হচ্ছেনা। এখন কে দেব বই পত্র। কে করাবে পড়া-শোনা। আমার বাবা কি অন্যায় করেছিল তাকে মেরে ফেলা হলো আলল্লাহ তাদের বিচার করবেন। পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, শার্শা-বেনাপোলের মানুষ বিচার চাইতে পারেনা। বিচার চাইলে তার উপর নেমে আসে দুর্যোগ। ইবাদত হোসেনকে টেন্ডার নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন অপহরন করে মেরে ফেলতে পারে। পরিবার কারোর নামে বিচার চাইতে পারেনি। তুহিন ছিল আমার বন্ধু তাকে প্যানেল মেয়র বানানো হয়। আজ তার অনুপস্তিতিতে পৌর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে তার পরিবারের পক্ষে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাক্তিতে দোষারোপ করা হচ্ছে। কারো মূল্যবান কিছু হারালে করতেই পারেন। প্রশাসন বিষয়টি উদঘাটন করবেন। বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান বলেন, পুলিশ সব ঘটনা খুজে বের করতে চেষ্টা করছে। ইবাদত হোসেনের বিষয়টি অনেক এগিয়েছে সন্দেহজনকদের আইনের আওতায় আনা হবে।






মন্তব্য চালু নেই