মেইন ম্যেনু

ক্রিকেটার সানি ও নাসরিনের বিয়ের কাবিননামা ভুয়া!

জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়া ক্রিকেটার আরাফাত সানির বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় দায়ের করা মামলার সময় বাদী তরুণীর পক্ষ থেকে আদালতে কাবিননামার একটি কপি দাখিল করা হয়। ওই কাবিননামার কপি হাতে আসার পর তার সত্যতা নিয়ে অনুসন্ধান। অনুসন্ধানে জানা যায় নাসরিন সুলতানার পক্ষ থেকে দাখিল করা ওই বিয়ের কাবিননামাটি ভুয়া।

কাবিননামার সূত্র ধরে দেখা যায় যে, পাঁচ লাখ এক টাকা দেনমোহরে ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর আরাফাত সানির সঙ্গে নাসরিনের বিয়ে হয়। কাজী অফিসের ঠিকানা দেওয়া আছে- ২০/বি, মেরাদিয়া, থানা- খিলগাঁও, জেলা- ঢাকা। কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেন।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানতে পারে ২০/বি, মেরাদিয়ায় কোনো কাজী অফিস নেই। তার পাশে ২০/১, মেরাদিয়ায় একটি কাজী অফিস আছে। ওই অফিসের কাজী সলিমুল্লাহ।

সরেজমিনে ওই কাজী অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করা হলে কাজী সলিমুল্লাহর ছোট ভাই ও কাজীর সহকারী মাওলানা বশির উদ্দিন বলেন, আমাদের ২০/বি, মেরাদিয়ায় কোনো অফিস নেই এবং আগেও ছিল না। ২০/১, মেরাদিয়ায় এই ঠিকানায় আমাদের অফিস ১৪/১৫ বছর ধরে। আর আমাদের কাজী সাহেবের নাম মোঃ সলিমুল্লাহ। মোঃ আনোয়ার হোসেন নামে কোনো কাজী নেই। এই নামে কাজীর কোনো সহকারীও নেই।

তবে কাজী সলিমুল্লাহ জানান, পাশের গোড়ানে আনোয়ার হোসেন নামে একজন কাজী আছেন।

কাজী সলিমুল্লাহর দেওয়া তথ্য নিয়ে প্রতিবেদক কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেনের সন্ধানে নামে। অবশেষে খিলগাঁওয়ের ৬৫ উত্তর গোড়ানে পাওয়া যায় কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেনের অফিস।

তিনি প্রতিনিধির কাছ থেকে কাবিননামা যাচাই-বাছাই করে জানান, এটা ভুয়া কাবিননামা।

কাজী আনোয়ার হোসেন জানান, সানি-নাসরিনের বিয়ের কাবিননামায় যে নম্বর দেখানো হয়েছে তার ওই অফিসের বালাম বইয়েও ওরকম কোনো নম্বর নেই। তিনি প্রতিবছর যে পরিমাণ বিয়ে নিবন্ধন করান তাতে বর্তমানে ৬ থেকে ৭টির বেশি বালাম ব্যবহার হয় না। আর তার অফিসের বালাম বইয়ের নম্বার শুরু হয় ১ থেকে। প্রতিটি বালামে ১শ পাতা আছে।

কাজী আনোয়ার হোসেন নিশ্চিত করেছেন এই কাবিননামা ভুয়া। কাজী আনোয়ার হোসেন তার সিল ও স্বাক্ষর দিয়েও মিলিয়ে দেন ওই কাবিননামায় যে কাজীর স্বাক্ষর রয়েছে তা তার নয়।

আদালতে দাখিল করা সেই কাবিন নামায় দেখা যায়, ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর পাঁচ লাখ এক টাকা দেনমোহরে আরাফাত সানির সঙ্গে নাসরিনের বিয়ে হয়।

কাবিননামায় আরাফাত সানির বয়স দেয়া হয়েছে ২৮ বছর আর কনের নাসরিন সুলতানার বয়স দেওয়া হয়েছে ২১ বছর।

ওই কাবিননামায় কনের উকিল হিসেবে নাম দেওয়া আছে মোঃ মঞ্জুর হোসেন এবং উকিলের স্বাক্ষী মনিরুল ইসলাম। নাসরিন সুলতানার বাবার নামও দেওয়া আছে মনিরুল ইসলাম।

রোববার ঢাকার মহানগর হাকিম প্রণব কুমারের আদালতে নাসরিন সুলতানার আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জুয়েল এ কাবিননামা দাখিল করেন। ৫ জানুয়ারি দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সানিকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। এ মামলায় সানি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

তবে সানির আইনজীবী জুয়েল আহম্মেদের দাবি— নাসরিনের এই বিয়ের কাহিনী মিথ্যা ও সৃজিত।

তিনি আরও বলেন, ‘সানি ৭ বছর আগে অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছেন।’ তবে আইনজীবী জুয়েল ওই বিয়ের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

থানা সূত্রে জানা গেছে, ৫ জানুয়ারি নাসরিন সুলতানা মোহাম্মদপুর থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেছেন। বাদির দাবি, সানির সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক আছে। প্রায় সাত বছর আগে আরাফাতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরে দুজনের মধ্যে যে ঘনিষ্ঠতা হয়, তার একপর্যায়ে পরস্পরকে ভালোবেসে ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর তারা বিয়ে করেন। কিন্তু বিষয়টি তারা অভিভাবকদের জানাননি।

সানি তাদের অন্তরঙ্গ কিছু ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেন। তাই নাসরিন মামলা করেছেন। পুলিশ সেই মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ সত্যতা পাওয়ায় সানিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় এবং একদিনের রিমান্ডে আনে।

এদিকে প্রতিবেদকের কাছে নাসরিন সুলতানা বলেন, দুই বছর আগে তাকে বিয়ে করেন ক্রিকেটার আরাফাত হোসেন সানি। বিয়ের পর গত বছর নাসরিনকে থাইল্যান্ড বেড়াতেও নিয়ে যান তিনি।

কাবিননামার বিষয়ে সোমবার নাসরিন সুলতানার সাথে একাধিক বার কথা বলার চেষ্টা করেন প্রতিবেদক। তিনি ফোন রিসিভ করে প্রশ্ন শোনার পর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে আবার কল দেওয়া হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি পরে কথা বলবেন। সূত্র : পরিবর্তন



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই