মেইন ম্যেনু

কোরীয় দ্বীপে বাড়ছে উত্তেজনা, সিউল-ওয়াশিংটন যৌথ সেনা মহড়া

পারমাণবিক হামলার হুমকির পর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এটি পরিষ্কার হয়ে উঠেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যের পর। তিনি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই ইঙ্গিতের পর শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালিয়েছে ওয়াশিংটন।

সিউলের সঙ্গে সেনা মহড়ার পাশাপাশি পৃথকভাবে নৌবাহিনীর অনুশীলনও অব্যাহত রাখেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সপ্তাহে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা একেবারে চূড়ায় পৌঁছেছে। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র অথবা ষষ্ঠ পারমাণবিক পরীক্ষা চালাতে পারে এমন শঙ্কা উত্তেজনায় পারদ ঢেলেছে।

শনিবার সকালের দিকে আবারও ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় পিয়ংইয়ং। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের এ পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ায় সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন।

২০ হাজার দক্ষিণ কোরীয় ও ১০ হাজার মার্কিন সেনা সিউলে যৌথ অনুশীলন চালিয়েছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ফয়েল ঈগল নামের দুই দিনের এই অনুশীলন রোববার শেষ হয়েছে। এর আগেও গত মাসে সিউলে ‘আসল সমাধান’ নামের যৌথ সামরিক অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংঘাতের লক্ষ্যেই এই অনুশীলন। কিন্তু সিউল এবং ওয়াশিংটন জোর দিয়ে বলছে, তার স্বাভাবিকভাবেই প্রতিরক্ষামূলক অনুশীলন চালিয়েছে। যদিও পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, তারা হামলার জন্য প্ররোচনামূলক অনুশীলন করছে। উত্তর এবং দক্ষিণের বিরোধে দীর্ঘদিন ধরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও চলতি বছরে এই পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকতে পারে।

পিয়ংইয়ংয়ের দফায় দফায় ব্যর্থ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও সেনাবাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ধরনের সেনা মহড়ার মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় ধরনের সঙ্ঘাতের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন উত্তর কোরিয়াকে।

এদিকে, রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএএস কার্ল ভিনসন নেতৃত্বাধীন ইউএস স্ট্রাইক গ্রুপের সঙ্গে যৌথভাবে নৌ-মহড়ায় অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে। জাপান সাগরের পূর্বদিকে জাপানের জলসীমায় এ মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথ অনুশীলনে অংশ নেবে জাপান ও ফ্রান্স। মহড়ায় অংশ নিতে ইতিমধ্যে জাপান সাগরে যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়েছে ফ্রান্স।

জাপানের সেলফ ডিফেন্স বাহিনী বলছে, প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়াম ঘাঁটি ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপের জাপানের জলসীমায় আগামী ৩ মে থেকে ২২ মে পর্যন্ত মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এই মহড়ায় ফ্রান্সের সাতশ সেনা-কর্মকর্তা অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া মার্কিন কর্মকর্তারাসহ ব্রিটিশ নৌবাহিনীর ৬০ নাবিক, জাপানের ২২০ সেনা কর্মকর্তা অনুশীলনে অংশ নেবেন। জাপানের জয়েন্ট স্টাফের এক বিবৃতিতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বাস এবং সহযোগিতা জোরদার ও উন্নত করার লক্ষ্যে ওই মহড়ার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

রোববারও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় মার্কিন পারমাণবিক সাবমেরিনে হামলার হুমকি দিয়েছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির লাগাম টেনে ধরতে চীন পিয়ংইয়ংয়ের ওপর চীন চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখছে বলে ট্রাম্প সিবিএস টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়া যদি আর একটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় তাহলে আমি খুশি হবো না। এবং আমি আপনাকে এও বলছি, আমি বিশ্বাস করি না যে চীনের প্রেসিডেন্ট; যিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার মানুষ, তিনিও খুশি হবেন।

সূত্র : এএফপি, সিবিএস।






মন্তব্য চালু নেই