মেইন ম্যেনু

কোরিয় উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন

টানা মহড়ার পরে এবার সত্যিই উত্তর কোরিয়ার উপদ্বীপে পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ। প্রথমেই পরমাণু বোমার আক্রমন করতে সক্ষম এমন সাবমেরিন পাঠিয়েছে সেখানে। এর পেছনেই রয়েছে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরি। এর আগে রণতরি পাঠালেও সেটি কোরিয় সাগরে গিয়ে অবস্থান নেয়নি। উপদ্বীপের কাছেই অবস্থান নিয়েছিল।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের কৌশল হিসেবেই প্রথমে সাগরের অদুরে রণতরি পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তারপরেই গোপনে পাঠানো হয় সাবমেরিন। এই সাবমেরিন সাধারণত রাডারে ধরা পড়ে না এবং দুর থেকেই হামলা চালাতে সক্ষম। পানির নিচে থাকায় সাবমেরিন শনাক্ত ও এর হামলা বুঝা যায় না। ফলে এখন উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা বাড়লো।

বিশ্লেষকরা এটাকে দেখছেন সমর কৌশল হিসেবে। তাদের মতে, দুই স্তরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সাবমেরিন কোরিয় উপদ্বীপে পৌঁছানোতে এ সাগরজুড়ে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। সম্ভ্যাব্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে আরো কয়েকটি দেশ। চীন অবশ্য এখনো যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান ঘোষণা করেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডুবোজাহাজ ইউএসএস মিশিগান মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দর নগরী বুসানে পৌঁছেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা এ পদক্ষেপকে সামরিক শক্তির প্রদর্শন হিসেবে তুলে ধরেছেন। ইতিমধ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস কার্ল ভিনসনের নেতৃত্বাধীন স্ট্রাইক গ্রুপকে কোরিয় উপদ্বীপের কাছাকাছি পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে পাঠানো হয়েছে। ওহিও শ্রেণির ডুবোজাহাজ গ্রুপের সঙ্গে পরে যোগ দিবে এবং জাপান সাগরে সামরিক মহড়া চালাবে।

উত্তর কোরিয়া এক আঘাতেই কার্ল ভিনসনকে ডুবিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়ার পরই মার্কিন পরমাণুবাহী রণতরি সাগরের তলদেশ থেকে উঠে এল কোরিয় সাগরে।

সংযুক্ত কোরিয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত জাপানের অধীনে ছিল। বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির কাছে জাপান পরাজয় স্বীকার করলে কোরিয়া দখলে নেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। এসময়ে কোরিয়ার দক্ষিণাংশ অক্ষশক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়াকে সমর্থন দিলে কোরিয়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। উত্তর কোরিয়া সমাজতন্ত্রকে ধারণ করে ও দক্ষিণ কোরিয়া মার্কিন পুঁজিবাদকে নিজের অর্থনীতির জন্য বেছে নেয়। এভাবেই কোরিয়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার জন্মলগ্ন থেকেই মার্কিনদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো। এবারো উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্ভ্যাব্য যুদ্ধের পূর্বেই দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান নিল যুক্তরাষ্ট্র।






মন্তব্য চালু নেই