মেইন ম্যেনু

কুমিল্লায় সীমার পরাজয় : আ.লীগের রাজনৈতিক বিজয়

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা পরাজিত হলেও রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের বিজয় হয়েছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। দলের একাধিক নেতা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) মতো কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে, শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। পাশাপাশি দলীয় প্রার্থী পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শুক্রবার গাজীপুরে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কুমিল্লায় দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারিনি। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল নিরপেক্ষ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা। জয়-পরাজয় বিষয় জনগণের।

দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, ‘এই নির্বাচনের পর আপনারা (বিএনপি) যদি মনে করে থাকেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হবেন তাহলে প্রস্তুত হন, ভোটে নামুন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবে জনগণ।’

দলটির অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের পুনরায় জয় হয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যে এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে হতে পারে এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দেয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ভূমিকা রাখতে পারেন তারই উৎকৃষ্ট প্রমাণ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। নিন্দুকদের মুখে ছাই দিয়ে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন উপহার দিয়েছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ তার প্রমাণ পেল। জনগণের অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে ভোট প্রদানের জন্য অভিনন্দন জানাই। পরাজিত হয়েও আমরা বিজয়ী হয়েছি বলে মনে করি। কারণ বিএনপির অহেতুক মিথ্যা অভিযোগ নতুন করে মিথ্যা প্রমাণিত হলো।

এ দিকে কুসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। তারা বলেছেন, দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে কুসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমার পরাজয় হয়েছে। দলের মধ্যে শৃঙ্খলা রাখতে হবে। দলের মধ্য থেকে কেউ ব্যক্তি স্বার্থে, ব্যক্তি লোভে কাজ করবে এটা মেনে নেয়া হবে না। স্থানীয় নির্বাচনে অনেক সময় গ্রুপিং ও দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়ে, যেটা কুমিল্লা নির্বাচনে পড়েছে। দলের মধ্যে কিছু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’

বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন দলটির নেতারা। তারা বলছেন, যারা দলের মধ্যে থেকে দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে কাজ করেছে তাদের ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। কুমিল্লার বিষয়ে সাংগঠনিক সম্পাদককে তথ্য নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারা দলের নিশ্চিত বিজয়কে বাধাগ্রস্ত করে তাদের কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ বিদ্রোহ করলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

হানিফ বলেন, দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কুমিল্লার বিষয়ে ইতোমধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদকদের বলেছি এ বিষয়ে তথ্য নিয়ে আসতে। এরপর আমরা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেব। আব্দুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ের কারণগুলো সুনির্দিষ্টভাবে, আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা এখনও মূল্যায়ন করতে পারি নাই। তবে নিশ্চয়ই ব্যাপারটি আমরা খতিয়ে দেখব। নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে কারণগুলো কী কী এবং দলের কোনো নেতাকর্মী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছে কিনা সেগুলো খতিয়ে দেখে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’






মন্তব্য চালু নেই