মেইন ম্যেনু

ক্রিকেটের পিছু ছাড়ছে না নারী কেলেঙ্কারী!

নারী কেলেঙ্কারী পিছু ছাড়ছে না ক্রিকেটারদের। বাংলাদেশের ক্রিকেট যখন তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সে সময় কয়েকজন ক্রিকেটার জড়িয়ে পড়ছেন বিতর্কে। তাও সেটা স্পর্শকাতর নারী কেলেঙ্কারী। যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এদেশের ক্রিকেট সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। এই কেলেঙ্কারীর সর্বশেষ উদাহরণ জাতীয় দলের ক্রিকেটার আরাফাত সানি।

রোববার (২২ জানুয়ারি) সকালে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে জনৈক নারীর মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় সানিকে। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে আদালত একদিনের রিমান্ড মুঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, সানির সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়েছিল। গত বছরের ১২ জুন তার ফেসবুক মেসেঞ্জারে একান্ত ব্যক্তিগত ছবি পাঠান সানি। পরে নানা ধরণের হুমকি ধামকি দেন। ২৫ নভেম্বর ফের ওই নারীকে মেসেঞ্জারে আপত্তিকর ছবি পাঠান সানি। যদিও তার আইনজীবী এসবকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।

বিষয়টি এখন আদালতের মাধ্যমেই সুরাহা হবে। সানি নির্দোষ না ওই নারী তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন- সেটা সময়ই বলে দেবে। সবচেয়ে বড় কথা, সানিকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। সাধারণ কোনো মানুষ হলে সংবাদমাধ্যমে এটা ঠাঁই-ই পেত না। সানি জাতীয় দলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০১৬ টি২০ বিশ্বকাপ খেলেছেন। ওই বিশ্বকাপে তার বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটি ধরা পড়ে। তারপর ব্রিসবেনে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিয়ে ফিরেছেন।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) রংপুর রাইডার্সের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। অপেক্ষা করছেন জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের। ঠিক তার আগে এরকম ঘটনা সানিকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করবে স্বাভাবিক।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে নারীঘটিত বিষয়ে বিতর্কের জন্ম দেয়া সানি প্রথম ক্রিকেটার নন। ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের আগে পেসার রুবেল হোসেন ও চিত্র নায়িকা নাজনিন আখতার হ্যাপিকে নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রুবেলকে জেলও খাটতে হয়। ২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর নায়িকা হ্যাপি বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তিনি সেখানে অভিযোগ করেন, ফেসবুকের মাধ্যমে রুবেলের সঙ্গে পরিচয় হয়। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রুবেল তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিন্তু রুবেল বিয়ের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।

শুধু তাই নয়, রুবেলকে জাতীয় ও বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ দিতে হাইকোর্টে রিট করেন হ্যাপি। হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন। শেষ পর্যন্ত জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলের সঙ্গী হন রুবেল। ইংল্যান্ডকে হারানো ম্যাচে অসাধারণ বোলিং করেন তিনি।

ওই বছর আরও একটি বিতর্কের জন্ম দেন পেসার শাহাদাত হোসেন। শিশু গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার হ্যাপিকে নির্যাতনের মামলায় তাকেও জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। একই মামলায় শাহাদাতের স্ত্রীকেও জেল খাটতে হয়। হ্যাপি শাহাদাতের বাসায় কাজ করত। শাহাদাত ও তার স্ত্রী তাকে প্রায়ই মারপিট করতেন। শুধু তাই নয়, তাকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকাও দিতেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে হ্যাপি বাসার দরজা খোলা পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে কালশিতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গিয়ে শাহাদাত ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেন জনৈক খন্দকার মোজাম্মেল হক।

এর আগে ২০০৭ সালে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ওয়ান্ডে সেঞ্চুরিয়ান মেহরাব হোসেন অপিও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। অপির প্রথম স্ত্রী সাদিয়া হোসেন রুমনির দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা ও আফজালুর রহমান নামে অপর ব্যক্তির প্রতারণা ও চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন অপি।






মন্তব্য চালু নেই