মেইন ম্যেনু

কারচুপি না করলে ভোটের ব্যবধান আরও বাড়ত : বিএনপি

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীনেরা কারচুপি না করলে ভোটের ব্যবধান আরও বাড়ত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নেতারা। তাঁদের দাবি, জনগণ যদি শেষ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারত, ভোটের ব্যবধান ৫০ শতাংশ বেশি হতো।

শুক্রবার রাজধানী ঢাকায় পৃথক একাধিক অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতা মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আবদুল্লাহ আল নোমান এ দাবি করেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘নির্বাচনে সাক্কু আরও অনেক ভোটে জিতত, যদি গোলমাল না হতো এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীর লোকেরা গোলমাল করে ভোটের গতি নষ্ট না করত তাহলে আরও অনেক ভোটে আমাদের প্রার্থী জয়লাভ করত।’

মওদুদ আহমদ বলেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের যে ক্ষোভ, নির্বাচনের ফলাফল তারই প্রতিবাদ। তিনি বলেন, সরকারের নানা রকম দুর্নীতি থেকে শুরু করে নির্যাতন-অত্যাচার এবং দেশে কোনো জবাবদিহি নেই, এটারই একটা প্রতিবাদ।

নতুন নতুন গল্প বানিয়ে মানুষ হত্যা : গয়েশ্বর
গতকাল দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘জাতীয়তাবাদী ক্ষুব্ধ জাতিগোষ্ঠী দল’ নামের একটি সংগঠনের আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জঙ্গিদের বিচার না করে হত্যার সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে জঙ্গি নাটক সাজানো হয়েছে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা জঙ্গি নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে। এখন প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, তাহলে এখন জঙ্গি হামলার একটি ঘটনা শেষ না হতে আরেকটি ঘটনা কীভাবে শুরু হচ্ছে?

গয়েশ্বর দাবি করেন, সরকার নতুন নতুন গল্প বানিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করছে। যাদের জঙ্গি বলে ধরা হচ্ছে, নাটক বানিয়ে সবাইকে ক্রসফায়ার করে হত্যা করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য উদ্‌ঘাটন করে না, বিচার হয় না। এদের পেছনে কে আছে, তারও কোনো তথ্য নেই।

কুমিল্লা সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা অনেক কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দিয়েছে। তাদের ভয়ে ভোটাররা নৌকার ব্যাজ পরে ধানের শীষে ভোট দিয়েছে। এটা নীরব বিপ্লব। যদি জনগণ শেষ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারত, ভোটের ব্যবধান ৫০ শতাংশ বেশি হতো।

কৌশলে বিএনপির জয় : নোমান
একই সময় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির আরেকটি মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন নামে আরেকটি সংগঠনের আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কৌশল অবলম্বন করে বিএনপি জয় লাভ করেছে।

আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, কুমিল্লায় নির্বাচনের পরিবেশ এমন ছিল, যেখানে নৌকা মার্কা বুকে না নিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কোনো উপায় ছিল না। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী— সবাই জনগণের মতামতের বিরুদ্ধে ছিল। তাই নির্বাচনে জনগণ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে।

কুমিল্লা সিটি নির্বাচন ত্রুটিপূর্ণ ছিল দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের মেয়র প্রার্থী সাক্কু (মনিরুল হক) গতকালই (নির্বাচনের দিন) অভিযোগ করেছেন, অনেক কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি কমপক্ষে ৩০ হাজার ভোটে জয় লাভ করত।’

সভায় আবদুল্লাহ আল নোমান ছাত্রদলের নেতা নুরুল আলম হত্যার কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘তাঁকে (নুরুল আলম) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, হত্যাও করেছে তারাই। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।’

জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই