মেইন ম্যেনু

কর্ণফুলী নদী ড্রেজিংয়ের দায়িত্ব পাচ্ছে নৌবাহিনী

চট্টগ্রাম বন্দরে কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটেল ড্রেজিং প্রকল্পের দায়িত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। মঙ্গলবার দুপুরে বন্দর অডিটোরিয়ামে ১৩০তম বন্দর দিবস উপলক্ষ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল। বন্দরের শহিদ মোহাম্মদ ফজলুল রহমান অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় বন্দর চেয়ারম্যান দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীতে ক্যাপিটেল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় তীর সুরক্ষা ও জেটি নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও মূল ড্রেজিং কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। এই প্রকল্পের ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের সঙ্গে আপোস মীমাংসার প্রক্রিয়া চলছে।’

‘এর মধ্যে প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ নৌবাহিনীকে দিয়ে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। অন্য অনুষ্ঠানিকতাও যথাসময়ে শেষ হবে’ বলেন তিনি।

খালেদ ইকবাল আরো বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটেল ড্রেজিং প্রকল্প এলাকায় পলির পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। এটা নিয়ে আর অপেক্ষার সুযোগ নেই। ২৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই কাজটি এখন নৌবাহিনীকে দেওয়া হবে। কাজ শেষ হওয়ার পরও তিন বছর তারা প্রকল্প এলাকা দেখাশোনা করবে।’

‘এছাড়াও বন্দরের নিজস্ব জনবল দিয়ে প্রতিবছর প্রায় লক্ষাধিক ঘনমিটার পলি বন্দর চ্যানেল থেকে অপসারণ করা হয়’ উল্লেখ করেন তিনি।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বন্দর এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বন্দরের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হচ্ছে। বছরে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। নতুন নতুন জেটি নির্মাণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি না সংগ্রহ করলে ২০১৯ সালের পর বন্দরের প্রবৃদ্ধি থমকে যাবে। তখন পুরো দেশই সংকটে পড়তে পারে।’

তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে ২৭০৯টি জাহাজ এবং ২০১৬ সালে ৩০১৪টি জাহাজ বন্দরে এসেছে।’

‘এই প্রেক্ষাপটে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের জন্য ছয়টি ক্রেন ও নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের জন্য যন্ত্রপাতি ক্রয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের নির্মাণ কাজ যথাসময়ে শেষ করে ২০১৯ সালের মধ্যে তা চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পতেঙ্গা উপকূলে বে- টার্মিনালের ডিজাইন জমা দিয়েছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালের মধ্যে বে- টার্মিনালের প্রথম পর্যায়ে কাজ শেষ করে দুটি জেটি চালু করার প্রচেষ্টা চলছে। উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কর্ণফুলী কন্টেনার টার্মিনাল নির্মাণের’ বলেন তিনি।
খালেদ ইকবাল আরো বলেন, ‘বে-টার্মিনালের জন্য ৯০৭ একর জমি প্রয়োজন। এই জমির বেশির ভাগই সরকারি খাসজমি, যার মূল্য প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। আমরা এই জায়গা দেশের স্বার্থে বন্দরের অনুকূলে প্রতীকী মূল্যে বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছি।’

মতবিনিয়ম সভায় বন্দর পরিচালনা পরিষদের সদস্য এবং অনান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






মন্তব্য চালু নেই