মেইন ম্যেনু

এভাবে প্রশ্ন করলে আমি স্ট্রোক করবো

‘আপনারা সবাই এভাবে প্রশ্ন করলে আমি স্ট্রোক করবো’ রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নবানে জর্জরিত নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যান এভাবেই তার প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলন করতে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় কড়া পুলিশি প্রহরায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আসেন তিনি। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম। চার পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়েই তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। তবে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নে জর্জরিত শহীদ চেয়ারম্যান উত্তেজিত হয়ে একপর্যায়ে বলে উঠেন, ‘আপনারা সবাই এভাবে প্রশ্ন করলে আমি স্ট্রোক করবো।’

পুরো সংবাদ সম্মেলনে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সাফাই গেয়েছেন।
এর আগে লিখিত বক্তব্যে শহীদ চেয়ারম্যান বলেন, ‘শামীম ওসমান ও নূর হোসেনের ফোনালাপের রেকর্ড যারা প্রকাশ করেছেন, তারাই এই হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা যদি জানেন নূর হোসেন ওই সময় কোথায় ছিলেন, তাহলে কেন গ্রেপ্তার করলেন না? এখন শামীম ওসমানকে অভিনব কায়দায় ফাঁসানো হচ্ছে। হঠাৎ করেই তাকে এখানে জড়ানো হচ্ছে কেন?’

শুক্রবার নূর হোসেনের সঙ্গে তার ফোনালাপের টেপটি ফাঁস হলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে শামীম ওসমান একই ধরনের কথা বলেন। পরদিন শনিবার নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শহীদ চেয়ারম্যান শামীম ওসমানের পক্ষ নিয়েই কথা বলেন। মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে তার বেশিরভাগ কথারই পুনরাবৃত্তি করলেন শহীদ চেয়ারম্যান। লিখিত বক্তব্য পাঠের সময়ে তার কথায় অনেক অস্পষ্টতা, অসংলগ্নতা ও ভুল বাক্য প্রয়োগ লক্ষ্য করা গেছে।

শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর ঘনিষ্ঠ ও ঠিকাদার আবু সুফিয়ান, ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া, কিলার সেলিম, নূর হোসেনের বডিগার্ড হাসানের ফোনালাপও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তা নিয়ে তো কথা হচ্ছে না? আবু সুফিয়ানকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না? তাহলে এরাই কি মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থের জোগানদাতা? তাদের কি ওই গোষ্ঠী রক্ষার চেষ্টা করছে?’ সাত খুনের মামলাটিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে একটি মহল নানামুখী অপচেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে শহীদ চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘২৭ এপ্রিল নজরুলকে অপহরণের পর আমরা শামীম ওসমানের কাছে গেলে তিনি মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ডেকে আনেন। পরে তিনি আমাদের সামনেই নূর হোসেনকে প্রথমে আন্তরিকভাবে ও একপর্যায়ে কঠিন ভাষায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় শামীম ওসমান নূর হোসেনকে বলেন, “তুমি যদি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাক বা জড়িত থাক তবে ভুল করেছ। এটা শেখ হাসিনার সরকার। এত বড় অপরাধ করে তুমি পার পাবে না।” নূর হোসেন তখন শামীম ওসমানকে উচ্চকণ্ঠে বলেন, “আপনি এমপি হয়েছেন মাত্র কয়েক মাস। এর আগে আমিই ছিলাম সিদ্ধিরগঞ্জের অঘোষিত এমপি! তখন ইচ্ছে থাকলে নজরুলকে মারতে পারতাম। আমি এসব জানি না, আমাকে এ ব্যাপারে আর প্রশ্ন করবেন না।” এ কথা বলে নূর হোসেন চলে যান। এরপর শামীম ওসমান আমাদের সামনেই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, র‌্যাবের কর্নেল জিয়া সাহেব ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে তিনি র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক তারেক সাঈদের কাছে যেতে পরামর্শ দেন।’

শহীদ চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা তারেক সাঈদের কাছে গেলে তিনি আমাদের বলেন, “আমার কাছে এসেছেন কেন? শামীম ওসমানের কাছে যান। উনিই আপনার জামাইকে গুম করেছেন।” সেদিন ৬ ঘণ্টা র‌্যাবের ক্যাম্পে আটকে রেখে অকথ্য ভাষায় আমাদের গালাগালি ও সবার মুঠোফোন কেড়ে নেয়া হয়। আমি তারেকের পা ধরে বলেছিলাম, প্রয়োজনে ডবল কোটি টাকা দেব, শুধু নজরুলকে ভিক্ষা দেন। একপর্যায়ে আমরা সেখান থেকে নিরাশ হয়ে ফিরে আসি।’






মন্তব্য চালু নেই