মেইন ম্যেনু

এখনো দেশে আসেনি প্রাথমিকের ৩৩ লাখ বই

বছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিকের সকল শিশুদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা করেছিল সরকার। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হলেও এখনো অনেক শিশুই নতুন বইয়ের ঘ্রাণ পায়নি। দাতাগোষ্ঠীর শর্তে বিদেশে ছাপতে দেওয়া প্রায় ৩৩ লাখ বই এখনো দেশে আসেনি। তাই এই সমস্যা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্র বিশ কোটি টাকা অনুদানের জন্য দাতা গোষ্ঠীর এই শর্ত মানা সরকারের উচিত হবে না। আগামীতে দেশেই সব বই ছাপানোর দাবি করেছেন তারা।

২০১৭ সালের জানুয়ারি মাস শেষ হতে চললেও এখনো দেশেই এসে পৌঁছেনি বিদেশে ছাপতে দেওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ৩৩ লাখ পাঠ্যবই। বইগুলো পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মুম্বাইয়ের মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান ‘শীর্ষাসাই’ সময়মতো পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে। এ বছর মোট ৫৯ লাখ পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ পায় ভারতের এই প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে মাত্র ২৬ লাখ বই দিলেও সেগুলোও দিয়েছে ১ জানুয়ারি পাঠ্যপুস্তক দিবসের পরে।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাটির বই বাংলাদেশ পৌঁছানোর কথা ছিল ২০১৬ সালের ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে। বই না আসায় এখনো চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী অঞ্চলের ১৯টি উপজেলার শিশুদের হাতে পৌঁছেনি পুরো সেট বই। ফলে ক্লাসে তাদের উপস্থিতি কম। এতে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকরা বেকায়দার পড়েছেন। সব শিক্ষার্থীকে নতুন বই দিতে গিয়ে কাউকেই পূর্ণাঙ্গ সেট দেয়নি বিদ্যালয়গুলো। ২ থেকে ৩টি করে বই দেওয়া হয়েছে প্রত্যেককে। কেউ বাংলা, ইংরেজি বা গণিত পেয়েছে। কেউ শুধু ইসলাম ধর্ম, সমাজ ও বিজ্ঞান বই পেয়েছে। ফলে কোন ক্লাশই ভাল করে নিতে পারছেন না শিক্ষকরা। কোনো শিক্ষার্থীই পুরো ক্লাশের পড়া করতে পারছে না।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বলছে, চলতি বছর প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ের ৯৮ লটের মধ্যে ১৬ লটে এক কোটি ৮০ লাখ বই ছাপার কাজ পায় ভারতীয় তিনটি প্রতিষ্ঠান। বাকি বই দেশে ছাপা হয়। চলতি শিক্ষাবর্ষে মোট ৪ কোটি ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯২৯ শিক্ষার্থীর জন্য প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বিতরণের জন্য মোট ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি বই ছাপানোর টেন্ডার দেয় এনসিটিবি। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই ছাপায় দেশীয় মুদ্রাকররা। প্রাথমিক স্তরের ১১ কোটি ৫৫ লাখ ২৬ হাজার ৯৫২টি বই ছাপাতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। ফলে দেশের পাশাপাশি এবার ভারত ও চীনেও প্রাথমিক স্তরের বই ছাপানো হয়েছে।

দেশীয় মুদ্রাকররা দাবি করেছেন, মুদ্রণশিল্পে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। শিক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কেবল বিশ্বব্যাংকের শর্ত মানা উচিত হবে না। দেশের স্বার্থেই বিদেশে আর কোনো বই ছাপতে দেওয়া যাবে না।






মন্তব্য চালু নেই