মেইন ম্যেনু

এক মাসেও উদঘাটন হয়নি রাউধার মৃত্যুর কারণ

পেরিয়ে গেল এক মাস। ঘটনার কোন কুল কিনারা হয়নি। এখনও চলছে তদন্ত। অগ্রগতি বলতে কিছুই নেই। অপেক্ষা এখন ফরেনসিক বিভাগের টেষ্ট রিপোর্ট। কবে নাগাদ মিলবে, এর কোন সুনির্দিষ্ট দিনক্ষনও জানা নেই। মৃত্যুর কারণ যেনো অজানার ভিড়েই আটকে গেছে। নীল নয়না মডেল কন্যা রাউধা আতিফের মৃত্যু রহস্যের উদঘাটনের বর্তমান পরিস্থিতি এমনটাই। মালদ্বীপের মালে থেকে বাংলাদেশের রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজে এসেছিলেন লেখাপড়া করতে।

গত ২৯ মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক হোস্টেলের ২০৯ নং কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন থেকেই হত্যা না আত্মহত্যা সেই বিষয়টি প্রশ্নবোধক চিহ্নের মধ্যে থেকে গেছে। যদিও ঘটনার দিন কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। কিন্ত এর কারণ কি হতে পারে সেই বিষয়টি পরিস্কার করে জানাতে পারেনি। বরং বাবা ডাঃ মোহাম্মদ আতিফের দায়ের করা হত্যা মামলার পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কারণ খুঁজে বের করার জন্য দ্বিতীয়বারের মত মরদেহের ময়নাতদন্ত করায়। এর ৬দিন চলে গেলেও কোন কিছু সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঢাকা থেকে ভিসেরাসহ অন্য প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন সিআইডি ও ময়নাতদন্তের তিন সদস্যের কমিটি। প্রতিবেদন না আসার কারনে তারা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও কোনো মন্তব্য লেখেননি।

ময়নাতদন্ত বোর্ডের প্রধান সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল চৌধুরী বলেন, দ্বিতীয়বারের মতন ময়নাতদন্ত করার সময় বেশকিছু কার্যক্রম চালানো হয়। এর মধ্যে দেহের এক্স-রে করা হয়েছে। সংরক্ষন করা হয়েছে কিছু সফট টিস্যু, কিছু বোনস (হাড়), কিছু ভিসেরা। অবশ্য সফট টিস্যুর বেশির ভাগই গলিত ছিল। এগুলোর প্রতিবেদন এলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন মরদেহ কিছুটা ডিকম্পোস্ট (গলিত), কিছুটা সুরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যায়। দেহ পরীক্ষা করে যা পাওয়া গেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তা বিস্তারিত লেখা হয়েছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত সব পরীক্ষার প্রতিবেদন না আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কোনো মতামত দেব না।

মামলার তদন্তকারী সিআইডি পরিদর্শক আসমাউল হক বলেন, রাউধার মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের অগ্রগতি সম্পর্কে বলার মত এখনও কোন কিছু পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ফরনসিক বিভাগের রিপোর্ট পেলে হত্যা বা আত্মহত্যার কারণ অনেকটা পরিস্কার হয়ে যাবে। রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ দুপুরে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রাউধা আত্মহত্যা করেছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তার সহপাঠীরা রাউধার ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে ফেলে।

গত ৩০ মার্চ রাউধার লাশ দেখতে রাজশাহীতে আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আয়েশাথ শান শাকির এবং তার মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা। ৩১ মার্চ মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ১ এপ্রিল রাজশাহী মহানগরীর হেতেমখাঁ গোরস্থানে দাফন করা হয়। এদিনই মেডিকেল বোর্ড প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যা করেছে বলে উল্লেখ করে। কিন্তু রাউধার বাবা তা মেনে নেননি। ১০ এপ্রিল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১৩ এপ্রিল হত্যা মামলাটি ও সেই সঙ্গে ঘটনার দিন দায়ের করা অপমৃত্যু মামলাটিও সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।

এরপর ১৬ এপ্রিল সিআইডির পক্ষ থেকে মরদেহটি পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলনের ব্যাপারে আদালতে কাছে আবদেন করা হয়। ১৮ এপ্রিল আদালত তা গ্রহণ করে রাউধার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনঃময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। ২০ এপ্রিল লাশ উত্তোলনের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হলেও ডাক্তার সঙ্কটের কারণে তা হয়নি। গত ২৪ এপ্রিল রাউধার মরদেহ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।






মন্তব্য চালু নেই