মেইন ম্যেনু

এই তরুণীর শরীর কাঠের লাঠি মতো শক্ত, এর নেপথ্য রহস্য জানলে চোখে পানি আসবে আপনারও

ম্যাজিক শো-এ এমনটা প্রায়শই দেখা যায়। ম্যাজিশিয়ান এক যুবতীকে শুইয়ে দিয়ে যাদুমন্ত্র আওড়ালেন। আর সঙ্গে সঙ্গে যুবতীর শরীরটা হয়ে গেল কাঠের টুকরোর মতো শক্ত। তাঁকে ইচ্ছে মতো দাঁড় করিয়ে বা শুইয়ে দিয়ে নানা কসরত দেখাতে থাকলেন যাদুকর। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার জাভার বাসিন্দা সুলামি নামের এক ৩৫ বছর বয়সি মহিলার শরীরটি কোনও ম্যাজিক নয়, বরং এক করুণ বাস্তবের প্রভাবেই কাঠের মতো শক্ত হয়ে রয়েছে বিগত ১০ বছর ধরে।

সুলামি অ্যাঙ্কলুজিং স্পন্ডেলাইটিস নামের এক বিরল রোগে আক্রান্ত। মেরুদন্ডে প্রবল যন্ত্রণা সৃষ্টিকারী এই রোগের প্রভাবে তিনি নিজের শরীরের কোনও অঙ্গ ভাঁজ করতে অক্ষম। সুলামি

উঠে বসতে পর্যন্ত পারেন না। ফলে সারাক্ষণ হয় শুয়ে, অথবা বসে থাকতে হয় তাঁকে। এবং শোয়া বা দাঁড়ানোর কাজটিও অন্য কারোর সাহায্য ছাড়া করতে পারেন না তিনি।

প্রায় বছর দশেক আগে এই রোগ বাসা বাধে সুলামির শরীরে। সুলামির নিজের বলতে এক ঠাকুমা ছাড়া আর কেউ নেই। উপরন্তু পরিবারে রয়েছে প্রবল অর্থকষ্ট। ফলত রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরে প্রথম কয়েক বছর কার্যত কো‌নও চিকিৎসাই হয়নি সুলামির। দিনে দিনে রোগ বেড়ে উঠে তাঁকে পঙ্গু করে দেয়।

এখন জাভার এক সরকারি হাসপাতাল সুলামির স্থায়ী ঠিকানা। সেখানেই ঠেকা দেওয়ার মতো চিকিৎসা চলছে তাঁর। ডাক্তাররা বলেছেন, মেরুদণ্ডের অপারেশনের মাধ্যমে রোগীকে কিছুটা সুস্থ করে তোলা সম্ভব। কিন্তু সেই অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করে উঠতে পারছেন না সুলামির ঠাকুমা।

এই অবস্থায় সুলামিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের প্রতিবেশীরা। তাঁরাই নিয়মিত হাসপাতালে গিয়ে সুলামির দেখভাল করেন। সুলামিকে বিছানা থেকে তুলে দাঁড় করানো কিংবা শুইয়ে দেওয়ার কাজটাও তাঁরাই করেন। তাঁরা চেষ্টা করছেন, সুলামির চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে। তাঁদের আশা, এক দিন না এক দিন তাঁরা ঠিক পর্যাপ্ত অর্থ তুলে ফেলতে সক্ষম হবেন। অপারেশন করিয়ে আবার সুস্থ হয়ে উঠবেন তরুণী। সেই ভবিষ্যতের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সুলামি আর তাঁর ঠাকুমা। -এবেলা।






মন্তব্য চালু নেই