মেইন ম্যেনু

এই কাজটিই মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়, এ সম্পর্কে যা বলেছেন রাসূল (সা:)

মাওলানা মুহম্মাদ জিয়াউদ্দিন: আল্লাহ কারোর মুখাপেক্ষী নন। যে কারণে কে ধনী কে গরিব আল্লাহর কাছে তা গুরুত্বহীন। আল্লাহর কাছে পরহেজগাররাই সবচেয়ে বেশি প্রিয়। বিশেষ করে যেসব গরিব মানুষ আল্লাহ এবং রসুল (সা.) এর নির্দেশ পালন করতে কষ্টকে বরণ করে নেয়, তাদের গুরুত্ব স্রষ্টার কাছে অনেক বেশি। তবে এ কষ্টের অর্থ নিজেকে নিঃস্ব করে ফেলা নয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসুল! কোন প্রকারের দান-খয়রাত উত্তম? তিনি বলেন : গরিবের কষ্টের দান। যাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তোমার ওপর তাদের থেকে দান-খয়রাত শুরু কর (আবু দাউদ থেকে মিশকাতে)।

উপরোক্ত হাদিসে জানা যায়, আন্তরিক নিষ্ঠা সহকারে যে দান-খয়রাতই করা হয়, তা আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার মর্যাদা রাখে। কিন্তু একজন নিঃস্ব গরিব মুসলমান কায়িক শ্রমে উপার্জিত অর্থ থেকে যা দান-খয়রাত করে তা আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়, অধিক উত্তম।

কোনো ব্যক্তির ওপর যাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব রয়েছে সর্বপ্রথম তাদের দেখাশোনা করা তার কর্তব্য। সাধারণত দেখা যায়, সুনাম-সুখ্যাতি অর্জনের উদ্দেশে নিকটাত্মীয়দের অধিকার উপেক্ষা করা হয় এবং অন্যদের মুক্ত হস্তে দান করা হয়।

আবু হুরায়রা (রা.) ও হাকিম ইবনে হিযাম (রা.) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন : সচ্ছলতা বজায় রেখে যে দান-খয়রাত করা হয় তা-ই উত্তম দান। তোমার পোষ্যদের থেকে দান শুরু কর (বুখারি ও মুসলিম থেকে মিশকাতে; ইমাম মুসলিম কেবল হাকিম ইবনে হিযাম (রা.)-এর সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

আল্লাহতায়ালা মূলত ইখলাস ও নিষ্ঠার ভিত্তিতে সওয়াব দিয়ে থাকেন, দান-খয়রাতের বাহ্যিক পরিমাণের ভিত্তিতে নয়। দ্বিতীয়ত, মানুষ যেন এমনভাবে নিজের সম্পদ ব্যয় না করে যার ফলে পরে নিজের ও সন্তানের জন্য অপরের কাছে হাত পাততে বাধ্য হয়।

সমাজের অপর মানুষকে সহায়তা করা ইসলামের দৃষ্টিতে সামাজিক দায়িত্ব হলেও তার অর্থ এই নয়, কেউ নিজেকে নিঃস্ব করে কিংবা তার ওপর যারা নির্ভরশীল তাদের বঞ্চিত করে দান করবে। ইসলাম তেমন অভ্যাসকেও যথার্থ মনে করে না।

মানুষ অবশ্যই অপর মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়াবে। কিন্তু নিজেকে কিংবা নিজের পরিবার-পরিজনকে বিপন্ন করে নয়। এ ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখতে হবে। লেখক : ইসলামী গবেষক






মন্তব্য চালু নেই