মেইন ম্যেনু

ঊর্মিলার বিয়ে সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়!

রীতিমতো নাটক, সিনেমার কাহিনী! বছরখানেক আগের কথা। ঊর্মিলার খুব কাছের এক বান্ধবী গুরুতর অসুস্থ। ভর্তি করা হয়েছে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। ঊর্মিলার তখন দিশেহারা অবস্থা! শুটিং ফেলে রাত-দিন পড়ে থাকেন বান্ধবীর কাছে। ওই সময় টানা একমাস হাসপাতালেই রাত কেটেছে তার। আরেকদিনের ঘটনা। বান্ধবীর জন্য রক্ত দরকার। কোথাও রক্ত পাওয়া যাচ্ছে না। ব্লাড ব্যাংকেও ওই গ্রুপের রক্ত সংকট। নিরুপায় ঊর্মিলা ফেসবুকে রক্ত আহ্বান করে স্ট্যাটাস দিলেন।
Urmila2
অনেক আগে থেকেই ফেসবুকে ঊর্মিলাকে অনুসরণ করতেন কোর্ট-টাই পরা ভদ্র এক যুবক। মনে মনে অনেকবার ‘হাই, হ্যালো’ পাঠানোর ইচ্ছাও করেছেন হয়তো। কিন্তু পাছে কি মনে করে বসে মেয়েটা! এই ভেবে মনকে শান্ত করেছেন। বান্ধবীকে নিয়ে ঊর্মিলার উৎকণ্ঠা তার হৃদয়ও স্পর্শ করলো। বুক ধুকধুক উত্তেজনা নিয়ে ফেসবুকে ইনবক্স করে জানালেন, ‘আমি রক্ত দিতে চাই।’ খুশি হলেন ঊর্মিলা। ফোন নম্বর দিলেন। পরদিন সকালে নিপাট ভদ্র বেশভূষার যুবকটি হাসপাতালে আসলেন। রক্ত দিলেন। কথা হলো, গল্প হলো। তার প্রতি ঊর্মিলার কৃতজ্ঞতার সীমা রইলো না।
Urmila3
সিনেমার কাহিনী বলা এজন্য যে, ওই যুবক জয়দীপ সিনহা রায়ই এখন ঊর্মিলার বর। ১৭ অক্টোবর আশীর্বাদ হয়ে গেছে তাদের। ঊর্মিলা জানালেন, ‘আমাদের বিয়ের নথিভুক্ত হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি।’ দু’তিন দিন হলো জয়দীপ-ঊর্মিলা কক্সবাজার থেকে ঘুরে এসেছেন। বিয়ে পরবর্তী ছোটখাটো মধুচন্দ্রিমা আর কি!

এ এক আজব উদাহরণ! দু’টি মানুষ একসঙ্গে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে। সুখে-দুঃখে, বিপদে, উৎসাহে একে অপরের খুব কাছাকাছি। সাহস দিচ্ছে, প্রেরণা যোগাচ্ছে। পরস্পরের সঙ্গে রক্তের যোগাযোগ নেই, তবুও স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কটি কোনো কোনো ক্ষেত্রে রক্তের সম্পর্ককেও ছাড়িয়ে যায়। ঊর্মিলার সঙ্গে জয়দীপের পরিচয়ের সেতু কিন্তু ওই রক্তই!

পরিচয় তো হলো। জানা গেলো সম্পর্কের সূত্র। কিন্তু পরস্পরের প্রতি প্রেম প্রেম অনুভব, গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে বুকের এক কোণে চাপা উদ্বেগ, উত্তেজনা, আনন্দ; শুনতে হবে সে কাহিনীও। উর্মিলা বলে গেলেন, ‘লক্ষ্য করলাম ছেলেটি বেশ দায়িত্বশীল। রক্ত দিয়েই সে তার দায়িত্ব শেষ করেনি। প্রতি মুহূর্তে খোঁজ খবর রেখেছে। হাসপাতালে যখনই যা দরকার হতো তাকে পাশে পেতাম। প্রতিদিনই অফিস শেষ করে হাসপাতালে দেখা করতে আসতো ও।’

Urmila4

উল্টোটাও হয়েছে। একদিন ছেলেটি আসেনি। প্রতিদিন যে সময়ে হাসপাতালে তার পা পড়তো ওইদিন উতরে গিয়েছিল সে সময়টা। ঊর্মিলা অনুভব করলেন, ভেতরে ভেতরে তার অস্থিরতা বাড়ছে। কেন? নিজের কাছেই প্রশ্ন খোঁজেন তিনি। ‘অথবা দেখা গেলো, একদিন আমি ফোন করিনি। ও ফোন দিয়ে বলতো- ‘আজ আসতে বললে না?’ ততদিনে সম্পর্ক ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’তে নেমে এসেছে। নরম হয়ে গেলো ঊর্মিলার মন। মাসের মাথায় বান্ধবী সুস্থ হয়ে উঠলো। কিন্তু ধীরে ধীরে দু’টি মনে অজান্তেই ছড়িয়ে পড়লো রোগ- প্রেমরোগ! সে এক অদ্ভুত অনুভূতি।
Urmila5
‘আমার বাড়িতে বিয়ের ব্যাপারে কথাবার্তা চলছিলো অনেকদিন ধরেই। আমি ওকে সবকিছু বললাম। তাকে জানালাম, তুমি যদি সত্যিই আমাদের সম্পর্কের ব্যাপারে সিরিয়াস থাকো, তাহলে আমি এগোবো’- বিয়ের সানাই শুরুর ঠিক শুরুর কথা জানাতে গিয়ে বললেন ঊর্মিলা। এরপরের কাহিনী দু’জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলো না আর। ছড়িয়ে গেলো দুই পরিবারে। পারিবারিকভাবে কথাবার্তা হলো। ঘটা করে আশীর্বাদও হলো ১৭ অক্টোবর। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে আগামী বছর এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে। এত দেরি কেনো? ঊর্মিলা বললেন, ‘জয়ের দুই ভাই দেশের বাইরে থাকে। বড় ভাইয়ের কন্যাসন্তান হয়েছে সবেমাত্র। ছয় মাস বয়সের আগে বাচ্চাকে নিয়ে উড়োজাহাজে চড়ার অনুমতি পাওয়া যায় না। তাছাড়া বৈশাখ মাস বিয়ের জন্য শুভলগ্ন। আর আমাদেরও বিভিন্ন প্রস্তুতির ব্যাপার আছে।’

ঊর্মিলা অভিনয় করেন। বিনোদনের আঙিনায় তার ভাবনারা ঘুরে বেড়ায়। অন্যদিকে জয়দীপ চাকুরিজীবী। তিনি চাকরি করেন ব্যাংকে। এ প্রসঙ্গ তোলার কারণ বুঝতে পারলেন ঊর্মিলা। আগেভাগেই দিয়ে দিলেন জবাব, ‘আমার অভিনয় নিয়ে ওর কোনো আপত্তি নেই। তবে পরামর্শ দেয়, সাবধান হয়ে চলার। আশপাশে তো ফাঁদের অভাব নেই। ওর পরামর্শ খুবই বাস্তব। আমি তো ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এসব ব্যাপারে অনেক সতর্ক।’

এরই মধ্যে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মন জয় করে ফেলেছেন ঊর্মিলা। সবাই তাকে খুবই পছন্দ করে। বিশেষ করে শাশুড়ি। তিনি তো একেবারে তার মায়ের মতোই! কোন শাড়িতে ঊর্মিলাকে ভালো লাগবে, সেটা নাকি তিনিই বাছাই করে দেন! ঊর্মিলার নতুন অধ্যায়ে বাংলানিউজের পক্ষ থেকে শুভকামনা।
Urmila6
(ওপরের ছবিতে) আশীর্বাদ অনুষ্ঠানে জয়দীপ সিনহা রায় ও ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর






মন্তব্য চালু নেই