মেইন ম্যেনু

উন্নয়ন বাজেটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তিনগুণ বরাদ্দ বাড়ছে

বিভিন্ন খাতে ঘাটতি পূরণে আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য বড় আকারের উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে।

এতে বরাদ্দ বেড়েছে পরিবহন, বিদ্যুৎ, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে। তবে বছর ব্যবধানে নতুন উন্নয়ন বাজেটে তিনগুণ বেশি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে।

এ ছাড়া এই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রথম ১০টি খাতে বরাদ্দ থাকছে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি এডিপির চেয়ে আট হাজার কোটি টাকা বেশি। এটি মোট টাকার ৭৭ শতাংশ। ৩৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে ফার্স্টট্র্যাকভুক্ত ৮টি বৃহৎ প্রকল্পের জন্য। এ সব প্রকল্প দেখভাল করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। বরাবরের মতো এবারো টাকার অংকে এগিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়েক অর্থবছর ধরে বিদেশি বিনিয়োগ কম আসছে। এই ঘাটতি পূরণেই নেওয়া হচ্ছে বড় এডিপি।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ও সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্য নিরসন ও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। বাংলাদেশের উন্নয়ন ‘রূপকল্প ২০২১’-এর অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১০-২১) এবং মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ সব পরিকল্পনার উন্নয়ন কৌশলের আলোকে গৃহীত অর্থনৈতিক খাতভিত্তিক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ অর্জনের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে এডিপি।

তিনি বলেন, সরকারের গৃহীত এ সব পরিকল্পনা ও বিভিন্ন খাতে বিদ্যমান নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আগামী অর্থবছরের জন্য নতুন এডিপি তৈরি করা হয়েছে। চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী এটি অনুমোদন দেবেন।

এরই মধ্যে মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকার নতুন এডিপি খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। এটি চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মূল ও সংশোধিত এডিপির চেয়ে ৪২ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা বা ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি। সরকারের যুক্তি হচ্ছে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাশা মাফিক আসছে না। তাই সরকারি বিনিয়োগ দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা হবে।

জানা গেছে, নতুন এই এডিপি বাস্তবায়নে সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) প্রস্তাব করা হচ্ছে ৯৬ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। আর উন্নয়ন-সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এটি মূল এডিপি হিসেবে পরিচিত। এর বাইরে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে এডিপির আকার ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা হবে।

নতুন এডিপিতে বরাদ্দের ভিত্তিতে এবারো স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রায় সাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকা, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিভাগে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সড়ক বিভাগে প্রায় পৌনে ১৭ হাজার কোটি, রেল বিভাগে প্রায় ১৩ হাজার কোটি, আর সেতু বিভাগে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক মিলিয়ে শিক্ষাখাতে মোট বরাদ্দ থাকছে মোট ১৫ হাজার কোটি টাকা। পৌনে চার হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ।

আগামী সোমবার ৮ মে পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হবে। এরপর চলতি মে মাসের মাঝামাঝিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় আগামী অর্থবছরের এডিপি অনুমোদন দেওয়া হবে। এনইসি সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, বর্তমানে প্রত্যেক এমপির নিজ নির্বাচনী এলাকায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরিতে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, নির্বাচন সামনে রেখে আগামী বাজেটে এমপিরা বিদ্যমানের চেয়ে বাড়তি আরো ৫ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দের দাবি জানান। বিশেষ করে গ্রামে নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ খাতে আরো বরাদ্দ দিতে বলছেন তারা। এ ছাড়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শক্তিশালী করা ও নতুন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার জোরালো দাবি আসছে।

আগামী ১ জুন ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সম্পদের সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবায়নের সমতার অভাবসহ নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নির্বাচন সামনে রেখে বিশাল বাজেট দিতে চান অর্থমন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরা হতে পারে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা থাকবে সরকারের।






মন্তব্য চালু নেই