মেইন ম্যেনু

ইচ্ছাশক্তিকে বাড়াবেন যেভাবে!

বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, “ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়!” আদিকাল থেকে প্রচলিত এই বাক্যটির কিন্তু বেশ গুরুত্ব রয়েছে। ইচ্ছাশক্তির জোড়ে মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করেছে এমন নজিরও রয়েছে প্রচুর। প্রতিটি মানুষের সাফল্যের পেছনে ইচ্ছাশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ইচ্ছাশক্তি প্রবল হলে মানুষ পারেনা এমন কোনো কাজ নেই।

অবশ্য সমাজে এমনও অনেক মানুষ আছেন যারা ইচ্ছাশক্তির জোড়ে কোনো কাজ শুরুর পর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ফলে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেও ইচ্ছাশক্তির অভাবে তা অধরাই থেকে যায়।

মানুষের ইচ্ছাশক্তি বৃদ্ধির উপায় বের করতে বিজ্ঞানীরা তাই নানা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, অতিরিক্ত খাটুনিতে শরীরের পেশির মতো ইচ্ছাশক্তিও ক্লান্ত হতে পারে। তাই সেই ক্লান্তি পূরণে দরকার পরিমিত খাদ্য গ্রহণ।
গবেষকেরা এটাও দাবি করেছেন, সঠিক যত্ন ও পরিচর্যার মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য পেশির মত ইচ্ছাশক্তির ক্ষমতাও বাড়ানো সম্ভব। চলুন জেনে নেই কিভাবে ইচ্ছাশক্তিকে বাড়ানো যায়।

* ধ্যান: মনের শক্তি বৃদ্ধিতে মেডিটেশন বা ধ্যানের গুরুত্ব অপরিসীম। বলা হয়, মেডিটেশনের মাধ্যমে ব্রেনকে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, রোজ ১০ মিনিট ধ্যান করলে কিছু দিন পর নিজের মধ্যেই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। অনুভব করা যায় যে, কোনো কাজে হাত দিলে তাতে আগ্রহবোধ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কর্ম সম্পাদনে আলাদা শক্তি পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া এতে মানসিক চাপও কমে যায় অনেক। তাছাড়া নিয়মিত ধ্যান করলে মনোযোগ, ইচ্ছাশক্তি, কোনো কিছু মনে রাখার ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।

* ব্যায়াম: মনের ইচ্ছেশক্তি বৃদ্ধির জন্য শারীরিক সুস্থতাও বেশ জরুরী। এজন্যে ব্যায়ামের গুরুত্ব অনেক। নিয়মিত ব্যায়াম শরীরকে সুস্থ ও চাঙ্গা রাখে। এর ফলে যে দৈহিক শক্তিই শুধু বৃদ্ধি পায় তা নয়, মনের উপরও তার প্রভাব পড়ে।

* শারীরিক অঙ্গভঙ্গি: ইচ্ছা শক্তি বাড়াতে শারীরিক অঙ্গভঙ্গির সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘক্ষণ আড়ষ্টতার মধ্যে কাজ করলে তা মনের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। তাই মনকে চাঙ্গা রাখতে শরীরের অঙ্গভঙ্গির বিষয়ে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। ইচ্ছাশক্তিকে বাড়িয়ে তুলতে যে কোনো কাজে আড়ষ্টবোধ ত্যাগ করা জরুরী।

* খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: জানা কথা, খাদ্যের মাধ্যমে শরীরের চাহিদা পূরণ হয়ে থাকে। কিন্তু একটু গভীরে গেলে জানবেন, খাদ্য গ্রহণের পর তা শুধু পাকস্থলিতেই জমা হয় না.. খাদ্যে থাকা রাসায়নিক পদার্থ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর পুষ্টির চাহিদা মেটায়। যেমন আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করি তা থেকে গ্লুকোজ নামক রাসায়নিক পদার্থ রক্তের সাথে প্রবাহিত হয়ে আমাদের মস্তিস্কে চলে যায়। যা আমাদের চিন্তাশক্তি ও ইচ্ছা শক্তির বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

* ঘুম: মস্তিস্কের বিশ্রামের জন্য প্রতিটি মানুষেরই পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে এর বিরূপ প্রভাব শরীর ও মনের উপর পড়ে। তাছাড়া পর্যাপ্ত বিশ্রাম না হলে শরীর গ্লুকোজ তৈরী করতে পারে না। ফলে মস্তিস্কের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটে। ক্লান্ত মস্তিস্কের প্রভাব শরীরেও ছড়িয়ে পড়ে। তাই ইচ্ছাশক্তিকে বাড়াতে হলে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য।

* মনোযোগ দিয়ে নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন: যখন যে কাজ করবেন তাতে সফলতা পেতে হলে সেটিতে মনোযোগ দিন। নির্দিষ্ট কাজের প্রতি মনকে কেন্দ্রীভূত করলে তা তুলনামূলক কম সময়ে শেষ করা সম্ভব। আর মনোযোগ না থাকলে কাজে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে বেশি। তাই হাতে অনেকগুলো কাজ জমে গেলে তা একটি একটি করে শেষ করুন। কেননা, একটি কাজকে প্রাধান্য দিলে মনকে কেন্দ্রীভূত করা সহজ হয়। তাই একই সঙ্গে অনেক কাজ নিয়ে বসে না থেকে একটি একটি করে তা সম্পন্ন করুন।

* আত্নবিশ্বাস: জীবনে সফল হতে হলে আত্মবিশ্বাস থাকাটা খুবই জরুরী! তাছাড়া আত্মতৃপ্তিরও প্রয়োজন রয়েছে। ইচ্ছেশক্তি বৃদ্ধির জন্য আগে নিজেকে ভালো করে চিনতে হবে।

* অনুপ্রেরণা: ইচ্ছাশক্তি বৃদ্ধির জন্য অনুপ্রেরণার বিকল্প নেই। কোনো কাজে যদি আগ্রহই না পাওয়া যায় তবে তাতে সফল হওয়া বেশ কঠিন। জানা কথা, জীবনের চলার পথে কারও অনুপ্রেরণা সাফল্যের শক্তি হিসেবে কাজ করে। আর সেই প্রেরণা যে শক্তিকে জাগিয়ে তোলে তা হল ইচ্ছেশক্তি।






মন্তব্য চালু নেই