মেইন ম্যেনু

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না জাপা

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মত প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না জাতীয় পার্টি (জাপা)। ইউপি নির্বাচনের জন্য প্রার্থীর তালিকা চেয়ে তৃণমূলে বার্তা দিলেও সাড়া মিলছে না। কারণ গত পৌরসভা নির্বাচনে দলটির ৬৩ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র একজন প্রার্থী জয় পেয়েছে। এ কারণে দলের নেতাদের মধ্যে প্রার্থী হবার আগ্রহ কমে গিয়েছে বলেও মনে করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আগামী ২২শে মার্চ দেশের ৩৫টি জেলার মোট ৭৩৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে নেয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দেন জাপার নতুন কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। সে অনুযায়ী জেলা কমিটিগুলোকে নির্দেশ দিলেও মিলছে না সাড়া।

দলটির কেন্দ্রীয় অফিস সূত্রে জানা যায়, গত রোববার জেলা কমিটিগুলোকে একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, যেসব জেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে, মঙ্গলবারের মধ্যে সেসব জেলার ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকা যেনো পাঠানো হয়। সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার দু-একটি ছাড়া কোনো জেলা থেকেই তালিকা মেলেনি।

গতকাল (বুধবার) প্রার্থীদের মাঝে মনোনয়নপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে দলটির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জানান, প্রথম দিন তারা ২০৫টি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য মনোনয়নপত্র দিয়েছেন।

যে ২০৫ জনকে মনোনয়নপত্র দেয়া হয়েছে তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করেনি দলটি। বুধবার রাত ১০ টা পর্যন্ত বেশ কয়েক বার দলটির কেন্দ্রীয় এবং চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও এ নামের তালিকা পাওয়া যায়নি।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও দলের দফতর সম্পাদক সুলতান মাহমুদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কয়টি জেলা থেকে তালিকা এসেছে এবং ২০৫ জনের তালিকার কথা তিনি জানেন না।

দলটির এক নেতা নাম না প্রকাশ করা শর্তে বলেন, তাদের হাতে এখন পর্যন্ত ১০০ জনের নামও আসেনি তৃণমূল এবং জেলা পর্যায় থেকে। তা হলে রুহুল আমিন হাওলাদার ২০৫ জনের কথা কিভাবে বললেন এ প্রসঙ্গে ওই নেতা বলেন, তা শুধু তিনিই বলতে পারবেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেটে প্রায় ১০০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০ জনের নামের তালিকা এসেছে। এছাড়া বাকি ৮০টি ইউনিয়নের জন্য কেউ আগ্রহও দেখায় নি। এদিকে ওই ৮০টি ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির কমিটিও নেই বলে বলে জানা গেছে।

দক্ষিণাঞ্চলের অবস্থাও একই রকম বলে জানা যায় দলীয় সূত্রে, দলটির মহাসচিবের অঞ্চল ঝালকাঠিতে মোট ৩৬টি ইউনিয়নের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো নামের তালিকা আসেনি। ৩৬টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র একজন আগ্রহ দেখালেও বাকি ৩৫টি ইউনিউনের জন্য কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

এ নিয়ে অনেক জেলার সভাপতিরা বলছেন, কেন্দ্র থেকে তাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো নিদের্শনা দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বলেন, ইউপি নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত কিছুই জানানো হয়নি।

এদিকে, এরশাদ রওশনের কোন্দলের কারণে আসন্ন নির্বাচনের জন্য দলীয় সংসদ সদস্যরা তাদের এলাকায় জাতীয় পার্টি নয়, সরকার দলের পক্ষে কাজ করছে বলেও দলটির সূত্রে জানা যায়।

কয়েক দিন আগে সংসদ ভবনে রওশনের নেতৃত্বে বিরোধীদলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, রওশন এরশাদকে দলের এক নাম্বার কো-চেয়ারম্যান না করা পর্যন্ত এরশাদের কোনো অনুষ্ঠানের প্রেসিডিয়াম এবং সংসদ সদস্যরা অংশ নিবে না।

সে ঘোষণার ধারাবাহিকতায় আসন্ন পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া বাকি সংসদ সদস্যরা এবং প্রেসিডিয়াম সদস্যরা তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

দলীয় সূত্র বলছে, যে ৩৫টি জেলায় নির্বাচন হচ্ছে তার মধ্যে ২৪টি জেলাতেই এখনও কাউন্সিল সম্পন্ন করতে পারেনি জাতীয় পার্টি। ওইসব জেলার নেতারা এখনও অন্তর্কোন্দলে লিপ্ত। দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়ায় ঝিমিয়ে পড়েছেন জেলা নেতারা।

এছাড়া, বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টির অবস্থান নিয়ে এখনও সন্দিহান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, দলের সর্বশেষ মেরুকরণে মনে হয়েছিল সরকার থেকে বেরিয়ে আসবে জাপা।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হয়ে তারা বরাবরই অসুবিধাই পড়েন। কেন্দ্রীয় ফোরাম থেকে মুখের কথা ছাড়া আর কোনো সাপোর্ট দেয়া হয়নি অতীতের নির্বাচনগুলোতে। এমনকি নিজ দলের এমপিরাও তাদের ভালোভাবে দেখভাল করেন না।

এ বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, গতবারের থেকে এবার ভালো ফলাফল করবে তাদের দল।






মন্তব্য চালু নেই