মেইন ম্যেনু

আ.লীগের কাছে উপেক্ষিত ১৪ দল

গত ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে ১৪ দলের শরিক দলগুলোর। এমনকি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময় মিটিং মিছিল করলেও তাতে পাত্তা পাচ্ছে না এই শরিকরা।

বর্তমানে শরিক দলগুলোর সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে এক সময় তাদের দাপট ছিল। কিন্তু দশম সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে উপেক্ষিত হচ্ছে ১৪ দলের শরিকরা। এ তথ্য ১৪ দলের সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের শরীক দলগুলো শুধু রাজধানীতে তাদের নিজস্ব বলয়ের মধ্য দিয়ে মিছিল মিটিং করলেও আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের রাখা হচ্ছে অন্ধকারে। এমনকি রাজধানীর ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিভিন্ন বৈঠকে ১৪ দলের শরিক নেতাদের মধ্যে দুয়েকজন বসার সুযোগ পেলেও অন্যরা দাঁড়িয়ে থাকেন।

এদিকে ১৪ দলের শরিক দলগুলোরও নেই সারা দেশের জেলা-উপজেলায় কমিটি। অন্যদিকে ভোট ব্যাংক না থাকায় ভোটের রাজনীতিতেও তারা প্রবাব ফেলতে পারেনি। এমনকি টাকা ছড়ানো থেকেও তারা রয়েছেন পেছনে। আর এই সুযোগে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ১৪ দলের শরিকদের হাতের লাটাই হিসেবে ব্যবহার করছে।

তবে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু মন্ত্রিত্ব ও দলের নেতাকর্মীদের সুযোগ সুবিধা দিতে ভুল
করেননি।

অন্যদিকে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদ দিলীপ বড়ুয়া গত নবম সংসদে মন্ত্রিত্ব বাগিয়ে নিতে পারলেও দশম সংসদে কিছুই পারেননি। বরং তাকে রাখা হয়েছে সবদিক থেকে অন্ধকারে।

১৪ দলের অনেক নেতাই মনে করছেন, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধেছি দেশের সাধারণ মানুষের জন্য লড়াই সংগ্রামের পথ সুগম করতে। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সেই সুযোগ দেয়ার কথা থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয়ার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের সঙ্গে জোটে থাকলেও তারা অনেক সময় জোটবিরোধী কাজ করছে।

তবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১৪ দলের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আওয়ামী লীগ যাই করুক ১৪ দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই হয়।’

বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি পলিট ব্যুারো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক কিছু মতপার্থক্য থাকলেও ১৪ দলের শরিক দল হিসেবে কোনো বিরোধ নেই। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সঙ্গে অমিল থাকলেও এই মুহূর্তে কোনো কথা বলতে চাই না।’

গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি নুরুর রহমান সেলিম বলেন, ‘১৪ দলে আছি থাকব। তবে মতপার্থক্য তো থাকতেই পারে। আগামী ২৪-২৫ অক্টোর আমাদের পার্টির সম্মেলন। ওই সম্মেলনে সিদ্ধাসন্ত হবে আমারা ১৪ দলে কেমনভাবে থাকব। যদিও আমাদের পার্টির মধ্য একটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল তাও মিটে গেছে।’

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল তাদের লোকজন বেশি। তাই আমাদের মূল্যায়ন না করতেই পারে। কিন্তু আমরা যেহেতু জোটে আছি, তাই ধৈর্য ধরতেই হবে। রাজনীতির ক্ষেত্রে সবাই কিছু পাওয়ার আশা করলেও আমরা করতে পারি না। কারণ আমরা একটি ধারার রাজনীতি করি। আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে যেসব মতবিরোধগুলো রয়েছে ভবিষ্যতে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।’






মন্তব্য চালু নেই