মেইন ম্যেনু

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা

আহতদের আত্মচিৎকারে ভারী কক্সবাজার সদর হাসপাতাল

মোঃ আমান উল্লাহ, কক্সবাজার ২৩মার্চ: নির্বাচন কমিশনারের ঘোষিত প্রথম দফার ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু থেকে গেছে নির্বাচনের জয়-পরাজয়ের আক্রোশ। শুরু হয়েছে এক গ্র“প অপর গ্র“পের উপর হামলা পাল্টা হামলা। ফলে আহতদের আত্মচিৎকারে ভাড়ী হয়ে উঠেছে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের পরিবেশ। এখানে রক্ত ঝরছিল গুলিবিদ্ধদের দেহ থেকে। আর আত্মচিৎকার তাঁদের স্বজনদের।

রক্তাক্ত সকলেই মহেশখালী পৌরসভা ও ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংস ঘটনার শিকার। এ পর্যন্ত যাঁদের পাওয়া গেল তাদেরমধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অনেকে। তাদের কেউ আওয়ামীলীগ আবার কেউবা বিদ্রোহী গ্র“পের কিংবা বিএনপির সমর্থক। অনেকের অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় তাদেরকে চট্টগ্রাম রেফার করেছেন চিকিৎসকরা। উন্নত চিকিৎসার জন্যই চমেক হাসপাতালে তাঁদের প্রেরণ করা হয়।

এইভাবেই ঘুরছিল ঘড়ির কাটা। হাসপাতালে কর্মরতদের ব্যস্ততাও ততোই বাড়ছিল। ডাক্তার, নার্স থেকে শুরু করে ওয়ার্ড বয় পর্যন্ত সবারই বেড়ে গিয়েছিল ব্যস্ততা।

গুলিবিদ্ধদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে জরুরী বিভাগ থেকে শুরু করে সার্জারি ওয়ার্ড পর্যন্ত এই ব্যস্ততা ছিলো চোখে পড়ার মতো। সবকিছু ছাপিয়ে যে বিষয়টি সবার নজরে পড়েছে সেটি হলো-হাসপাতালের ভেতরের মানবিকতা। মানবতা যে কোন জাত, বর্ণ, ধর্ম, শ্রেণী, রাজনীতি বুঝে না সেটিরই প্রমাণ রাখলেন সবাই। কয়েক ঘন্টা আগেও যাঁরা দু’গ্র“পে বিভক্ত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিলেন। তাঁরাই হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের পাশাপাশি সিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সহায়তা করছেন একে অপরকে। এক পক্ষের লোকজন এগিয়ে এসে খোঁজ খবর নিচ্ছেন অপর গ্র“পের সমর্থকদের। হঠাৎ করে হাসপাতালের অভ্যন্তরে একটি টিভি চ্যানেলের বরাত দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে একটি খবর। চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে মারা গেছেন এক পক্ষের এক সমর্থক। এ সময় সকলে আফসোস করলেও সহায়তা দিতে কার্পণ্য করেননি। পরে মৃত্যুর সংবাদটি গুজব এ কথা জানার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দেয় সকলের মধ্যে।

আব্দু সালাম নামের এক যুবক এসেছিলেন সদর হাসপাতালে। রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এই যুবক এসেছিলেন তাঁর দু’জন গুলিবিদ্ধ আত্মীয়ের সেবা করতে। যাঁরা ছিলেন আওয়ামীলীগ সমর্থক। কিন্তু হাসপাতালে এসে তাঁর সেই আত্মীয়ের পরিবর্তে বেশি সেবা করতে হয়েছে বিদ্রোহী গ্র“পের কিংবা বিএনপি সমর্থকদের। কথা বলতেই হেসে বললেন, “দেখছেন না এখানে কোন পক্ষ নেই।” আব্দু সালামের মতো আরো অনেকেই এ কাজ করেছেন।

নির্বাচন পরবর্তী সংঘটিত সহিংসতায় যাঁরা গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত হয়েছেন তাঁরা হলেন, গোরকঘাটার তৌকির উদ্দিন (৩২), ঘোনারপাড়ার আব্দুল করিম (২৮), দাসি মাঝির পাড়ার মো.রাসেল (১৭), মাতারবাড়ির মো.শরীফ, কক্সবাজার শহরের বাহারছড়ার মো.জাহেদ, মহেশখালীর ঘোনারপাড়ার মাহামুদুল করিম (২২), দক্ষিণ পুটি বিলার নুরুল কবির, পোকখালীর মোবারক, মহুরির ডেইল এলাকার আব্দুস সবুর (৩০), একই এলাকার আবু ছিদ্দিক, পুটিবিলার রহমত উল্লাহ ও আব্দুস শুক্কুর, বড় মহেশখালীর এস.এম রহমত উল্লাহ, গোরকঘাটা সিকদার পাড়ার আব্দুল্লাহ, পুটিবিলার হেলাল উদ্দিন, সিকদার পাড়ার কামাল হোসেন এবং গোরকঘাটার মো.রশীদ। সদর হাসপাতালে রেজিস্টার থেকে সংগৃহীত তালিকায় উল্লিখিতদের নাম পাওয়া গেছে।






মন্তব্য চালু নেই