মেইন ম্যেনু

আরাফাত সানীর জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ক্রিকেটার আরাফাত সানীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম জাকির হোসেন টিপুর আদালত এ আদেশ দেন।

এক দিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. ইয়াহিয়া আরাফাত সানীকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আসামি আরাফাত সানীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত চলছে। এ অবস্থায় তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হোক। আসামিকে জামিন দিলে মামলার তদন্ত বিঘ্নিত হতে পারে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী এম জুয়েল আহমেদ আরাফাত সানীর জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, মামলায় ঘটনার দুটি তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। বাদী মামলা করতে লম্বা সময় পার করেছেন। এরপর একটা অস্তিত্বহীন ভুয়া কাবিননামা দিয়ে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার এতদিন পার হয়ে গেছে। তারা মুসলিম ও পারিবারিক আইনে মামলা করতে পারত। কিন্তু তারা তা করেনি।

তিনি বলেন, আরাফাত সানী আমাদের জাতীয় সম্পদ, বিশ্বখ্যাত ক্রিকেট তারকা। তার খ্যাতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে মামলাটি করেছে। আমরা তার জামিন প্রার্থনা করছি।

অপরদিকে বাদীর আইনজীবী নাসিম জাহান (রুবী) এবং এম কামাল উদ্দিন আহম্মদ জামিনের বিরোধিতা করেন। তারা আরাফাত সানী এবং নাসরিন সুলতানা (বাদী) যে একসঙ্গে থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন তার প্রমাণ হিসেবে পাসপোর্ট ও ভিসা আদালতে দাখিল করেন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আরাফাত সানীর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে ২২ জানুয়ারি আরাফাত সানীর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এদিকে আরাফাত সানীর জামিন শুনানিকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী দাবিদার নাসরিন সুলতানা।

মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা গেছে, আরাফাত সানীর সঙ্গে নাসরিন সুলতানার প্রায় ৭ বছর আগে পরিচয়ের সূত্রে ঘনিষ্ঠতা হয়। একপর্যায়ে তারা অভিভাবককে না জানিয়ে ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর বিয়ে করেন। বাদী নাসরিন সুলতানা বিভিন্ন সময়ে বিয়ের বিষয়টি অভিভাবকদের জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ঘরে তুলে নেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু আরাফাত সানী তার কথায় কর্ণপাত না করে বিভিন্ন বিষয়ে ভয়ভীতি দেখায়। গত বছর ১২ জুন রাতে আরাফাত সানী নাসরিন সুলতানার নাম এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে ওই আইডি থেকে বাদীর আসল অ্যাকাউন্টে অন্তরঙ্গ অশ্লীল ছবি পাঠায় এবং নানা হুমকি দিতে থাকে। এরপর গত ২৫ নভেম্বর রাতে আসামি ভিকটিমের নগ্ন ছবি তার ফেসবুকে পাঠিয়ে আরো ভয়াবহ অবস্থা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে বলে।

প্রসঙ্গত, ২২ জানুয়ারি সকালে আমিনবাজারের বাসা থেকে সানীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ৫ জানুয়ারি আরাফাত সানীর প্রাক্তন স্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে আরাফাত সানীর বিরুদ্ধে যৌতুকের অভিযোগে গতকাল সোমবার আদালতে আরেকটি মামলা করেছেন নাসরিন সুলতানা। ওই মামলায় সানীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। তাকে ৫ এপ্রিল আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই