মেইন ম্যেনু

আমাদের কি খ্রিষ্টান হওয়া উচিত? : প্রশ্ন সিরীয় অভিবাসীর

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অনেক দেশের নাগরিকের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের লাগাম টেনে ধরলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দায়িত্বগ্রহণের একেবারে প্রথম দিকে মুসলিম শরণার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

নতুন মার্কিন কমান্ডার ইন চিফ ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর এবার সেই পথেই হাঁটতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত ২০ জানুয়ারি শপথের দিন বক্তৃতায় পৃথিবী থেকে ‘মৌলবাদী ইসলামি সন্ত্রাসী’ নির্মূলের অঙ্গীকার করেন তিনি।

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। অভিবাসন সীমিত করতে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন তিনি। ওই আদেশে বলা হয়েছে, ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া ও ইয়েমেনের শরণার্থীরা তিন মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া সিরীয় শরণার্থীরা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাবে না।

ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এদের অনেকেই বলছেন, তারা মার্কিন এ নিষেধাজ্ঞায় বিস্মিত নন।

সুদানের ৩৬ বছর বয়সী রাজনীতিক ও কার্টুনিস্ট খালিদ আল-বাইহ বার্তাসংস্থা এপিকে বলেন, কেউ বিস্মিত নয়; তবে প্রত্যেকেই হতাশ। বিশেষ করে বারাক ওবামার সময়ে দেখা স্বপ্ন নিয়ে। আমেরিকার নতুন এই ভিসা নীতির প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। তিনি বলেন, আমেরিকা যা করে, পুরো বিশ্ব তা অনুসরণ করে।

সিরিয়ার রাজধানী দামাসকাসের বাসিন্দা শাদি সাব্বাগের (৪০) এক বোন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী সীমিত করতে ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলে মন্তব্য করেছেন শাদি। তিনি বলেন, আমেরিকা অভিবাসীদের একটি জাতি এবং কেউ কখনোই অভিবাসন নিষিদ্ধ করতে পারেনি। যদি কিছু মুসলিম ভুল কাজ করে তাহলে এতে আমার অপরাধ কী? এ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য কি আমার খ্রিষ্টান হওয়া উচিত?

ইরাকি পার্লামেন্টের শিয়া সদস্য আব্বাস আল-বায়াতি বলেছেন, অভিবাসন সীমিতকরণ ইরাকিদের কাছে ভুলবার্তা দেবে। আর এটি এমন করা হচ্ছে যখন ইরাকের উত্তরাঞ্চলের মসুলে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে ইরাকি বাহিনীকে সমর্থন করছে মার্কিন বাহিনী।

আল বায়াতি বলেন, ইরাক এবং যুক্তরাষ্ট্র সব সময় জোর দিয়ে বলছে, ‘তারা মিত্র’। কিন্তু ইরাকে গণতন্ত্র রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। দুই দেশের ভালোর জন্য তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

ইরাকের এমপি মজিদ চেনকালি বলেন, মার্কিনিদের জন্য একই ধরনের ভিসা নীতি চালু করে ইরাকের জবাব দেয়া উচিত। এটি হওয়া উচিত; চোখের বিনিময়ে চোখ।

মিসরের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নোবেল বিজয়ী মোহাম্মদ আল বারাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেয়া এক টুইটে বলেছেন, আমাদের যে মর্যাদা আছে তা বোঝানোর জন্য কী সেখানে কোনো আরবীয় কর্মকাণ্ড দেখা যাবে?

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে দেশটিতে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ লাখ মানুষ সিরিয়া থেকে পালিয়েছে। এদের অনেকেই প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে বাঁচার লড়াই করছে। এছাড়া অনেকের আত্মীয়-স্বজন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

ট্রাম্প সাত দেশের মুসলিমদের জন্য ভিসা অভিবাসন বন্ধের ঘোষণা দিলেও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিশেষ বিবেচনার দ্বার খোলা রেখেছেন। তিনি বলেন, খ্রিষ্টান ও সংখ্যালঘুদের প্রাধান্য দেয়া হবে।

শরণার্থী মানবাধিকার সংস্থাগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিবাসন সীমিতকরণের পদক্ষেপে নিন্দা জানিয়েছে। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংখ্যালঘুরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

আরব-আমেরিকান ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট জেমস জগবি; যিনি একজন খ্রিষ্টান। বিভিন্ন দেশের সংখ্যালঘু খ্রিষ্টানদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পক্ষপাতমূলক এই সিদ্ধান্তের কারণে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টানরা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে।

সূত্র : এপি, রয়টার্স, বিবিসি।






মন্তব্য চালু নেই