মেইন ম্যেনু

আব্বাস-সোহেলরা ব্যর্থ শুরুতেই

ঢাকঢোল পিটিয়ে গঠন করার পর সংগঠনকে খোলনলচে পাল্টে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যত কিছুই করতে পারছে না ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি। এক মাসের মধ্যে রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডের কমিটিগুলোকে পুনর্গঠন এবং দুই মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু এই নির্দেশ সীমাবদ্ধ আছে কেবল ঘোষণাতেই।

এই এক মাসেও ঢাকার ওয়ার্ড কমিটির একটিও পুনর্গঠিত হয়নি। আসলে আহ্বায়ক কমিটিতে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণে এই কাজে হাতই দিতে পারছে না তারা। আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও আগের মতোই এই কমিটির নেতারাও বক্তব্যনির্ভর হওয়ায় ভেঙে গেছে সে আশা। বিএনপির কর্মসূচিগুলোও আর আগের মতো টানছে না কর্মীদের। গণমাধ্যমেরও মনোযোগ পাচ্ছে না সেভাবে। বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে নিতে সংবিধান সংশোধনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীতে একসঙ্গে ১৫টি এলাকায় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েও তা করতে পারেনি বিএনপি। শেষ পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে একটি এলাকায় হয় সমাবেশ।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনে ঢাকার বাইরে নেতা-কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলেও রাজধানীতে নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ তৈরি করে দলটির শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে। ভোটের পর পরই ক্ষুব্ধ খালেদা জিয়া রাজধানীসহ সারা দেশেই সংগঠন ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দেন। এরপর মির্জা আব্বাসকে সভাপতি এবং হাবিন-উন-নবী খান সোহেলকে সদস্য সচিব করে ১৮ জুলাই ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি।

এই হিসেবে ঢাকায় বিএনপির ১০০টি ওয়ার্ড কমিটির পুনর্গঠন শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৮ আগস্টের মধ্যেই। কিন্তু কমিটির কার্যক্রম এখন পর্যন্ত কয়েকটি বৈঠক, যৌথসভা ও আলোচনা সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বরং কমিটি গঠনের পর ঢাকায় বিএনপির আগের দ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়েছে নতুন করে।

সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা এবং মির্জা আব্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব পুরনো। নতুন কমিটি গঠনের পর এই দ্বন্দ্বের পাশাপাশি নতুন বিরোধ তৈরি হয়েছে মির্জা আব্বাস ও হাবিন-উন-নবী খান সোহেলের মধ্যে। খোকার অনুসারীরা এখন সমর্থন দিচ্ছেন সোহেলকে।

খোকার সমর্থকদের একটি অংশ বলছে, এই কমিটির চেয়ে আগের কমিটিই ভালো ছিল। তারা শুধু মুখেই সরকার বিরোধী আন্দোলনের কথা বলছে কিন্তু কিছুই করছে না। যদি আসলেই কিছু করার ইচ্ছা থাকত তাহলে খালেদা জিয়ার নির্দেশে এক মাসের মধ্যেই ওয়ার্ড কমিটিগুলো পুনর্গঠন হয়ে যেত।

ঢাকা মহানগর বিএনপির যৌথসভায় মির্জা আব্বাসকে এ নিয়ে চাপও দিয়েছেন অন্য নেতারা। জবাবে তিনি বলেন, গাজায় ইসরাইলি হামলাসহ নানা বিষয়ে প্রতিবাদ করতে হয়েছে বিএনপিকে। এছাড়াও ছিল নানা ইস্যু। এসব কারণে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।

খালেদা জিয়ার নির্দেশের পরও এক মাসেও কেন ওয়ার্ড কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শেষ হয়নিÑ জানতে চাইলে হাবিব- -উন-নবী খান সোহেল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এটা ঠিক যে, নেত্রী আমাদের এক মাস সময় দিয়েছিলেন। স্বীকার করতে বাধা নেই যে, সে কাজ করতে পারিনি আমরা। নানা কারণ ছিল এর পেছনে। দলের ঘোষিত নানা কর্মসূচির কারণেও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে কাজ। তবে আমরা বসে নেই, তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। তাদের মতামতের ভিত্তিতেই হবে সব কিছু।’

কবে নাগাদ এই কাজ শেষ হবে, কোনো সময় বেঁধে দিতে পারবেন কিÑ জানতে চাইলে সোহেল বলেন, ‘আমরা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলব এবং আরও কিছু দিন সময় চাইব।’ তিনি এও বলেন, ‘এক মাসের মধ্যে এত বড় কাজ করা সম্ভব নয়।  তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা কাজ অবশ্যই শেষ করব।’

মহানগরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি কবে হবে সে বিষয়ে জানতে চাইলে আহ্বায়ক কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, যেখানে ওয়ার্ড কমিটিগুলোই এগোয়নি, সেখানে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে এখনো ভাবছেন না তারা।

এ বিষয়ে চেষ্টা করেও আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি মির্জা আব্বাসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সদস্য সচিব হাবিব- -উন-নবী খান সোহেল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আগে শেষ করতে হবে ওয়ার্ড কমিটি। তারপর হাত দিতে হবে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। বাস্তবতা হচ্ছে এই কাজে আরও অনেক সময় লাগবে। এই বিষয়টি নিয়েও আমরা কথা বলব নেত্রীর সঙ্গে।’ –






মন্তব্য চালু নেই