মেইন ম্যেনু

আবুর লাশ আবার ফিরিয়ে নিল পুলিশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ নিহত রফিকুল আলম আবুর লাশ তার চাচার কাছে হস্তান্তর করার পর আবার ফিরিয়ে নিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আবুর চাচা ইয়াসিন আলী তার লাশ গ্রহণ করেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তা আবার ফিরিয়ে নেয়া হয়।

শিবগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘আবুর মা-বাবা কেউ না আসায় চাচাকে লাশ দেওয়া নিরাপদ মনে করিনি। তাই লাশ আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’ এখন লাশ মর্গে রয়েছে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার বেলা দেড়টার সময় শিবগঞ্জের ওই বাড়ি থেকে আবুসহ চারজনের লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে সন্ধ্যায় লাশগুলোর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

এই চার ‘জঙ্গি’ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত হয় বলে জানায় পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজনের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ায় চেনার উপায় নেই। তবে আবুর লাশ ক্ষতবিক্ষত না হওয়ায় তাকে চেনা গেছে।

ওই ‘জঙ্গি আস্তানা’য় অভিযানের সময় বৃহস্পতিবার বিকালে সেখান থেকে আবুর স্ত্রী ও তার মেয়েকে আহত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন আবুর স্ত্রী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শিবগঞ্জ উপজেলার চাচরা গ্রামের দিনমজুর আফসার আলীর ছেলে রফিকুল আলম আবু।শিবগঞ্জের ওই ‘জঙ্গি আস্তানা’র বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে চাচরা গ্রামে তার বাবা-মা থাকেন। শুক্রবার দুপুরে আবুর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জানান, তারা আবুর লাশ নেবেন না।

বুধবার সকাল থেকে দুই দিন ধরে ঘিরে রাখা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের জন্য একাধিকবার হাতমাইকে বলা হলেও তারা সাড়া দেয়নি। জঙ্গিদের ব্যাপক প্রতিরোধের মধ্যে বৃহস্পতিবার অভিযান চালায় সোয়াট। বিকালে জঙ্গি আবুর স্ত্রী সোমাইয়া বেগমকে ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এর পরে উদ্ধার করা হয় আবুর চার বছরের মেয়ে সাজিদা খাতুনকে। কিন্তু ভেতরে থাকা চার পুরুষ জঙ্গি আত্মসমর্পণ না করে নিজেরা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ঘটনাস্থলেই তারা মারা যায়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোররাতে কাউন্টার টেরোরিজমের সদস্যরা মোবারকপুর ইউনিয়নের শিবনগর এলাকার ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। পরে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে বাড়ির ভেতরে অবস্থানরতদের আত্মসমপর্ণের আহ্বান জানানো হলেও তাতে সাড়া দেয়নি কেউ। জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে ওই দিনই এলাকায় জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। বিকেলে অভিযানে যোগ দেন ঢাকা থেকে আসা সোয়াট সদস্যরা। বুধবার সন্ধ্যায় সোয়াট সদস্যরা শুরু করেন অপারেশন ইগল হান্ট। তবে রাত নয়টার দিকে তা স্থগিত করা হয়। পরদিন সকালে দ্বিতীয়বারের মতো অপারেশন শুরু করে সোয়াট।






মন্তব্য চালু নেই