মেইন ম্যেনু

আবারো পুলিশের হাতে বন্দী ‘লৌহমানবী’

আবারো গ্রেপ্তার করা হয়েছে মণিপুরের ‘লৌহমানবী’ কিংবা ‘অগ্নিকন্যা’ খ্যাত ইরম শর্মিলা চানু। অথচ গত মঙ্গলবার তাকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

এরপর বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি। মুক্তি পেলও তিনি যে আন্দোলনের পথ থেকে সরছেন না সেদিনই তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এ ‘লৌহমানবী’। তাকে জোড় করে খাওয়ানোর চেষ্টা করা হলেও তা মেনে নেবেন না বলে জানান ইরম। এরপরই প্রতিবাদী মঞ্চ তৈরি করে আবারো শুরু হয় তার আন্দোলন।

শুক্রবার সকালে তার অনশন মঞ্চে হাজির হয় পুলিশ। এসময় ইরম ও তার মা পুলিশকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন। তখনই ইরমকে জোড় করে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়।

রাজ্য থেকে মণিপুরে আর্মড ফোর্স স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট (আফস্পা) প্রত্যাহারের দাবিতে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অনশনের মাধ্যমে আন্দোলন করছেন ইরম শর্মিলা। ২০০০ সালে ইম্ফলের মালোমে সেনা সদস্যরা ১০ জনকে গুলি করে হত্যা করার পর এর প্রতিবাদে অনশনে বসেন তিনি। নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরেও অনশনে বসেন মণিপুরের এ ‘লৌহমানবী’।

তাকে অনশন তুলতে বাধ্য না করতে পেরে শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এই আন্দোলনকে আত্মহত্যার চেষ্টার নাম দিয়ে চানুকে বছরের পর বছর গৃহবন্দী করে রাখে পুলিশ। এরপর থেকে হাসপাতালেই ছিলেন তিনি। গত ১৪ বছরে কোনো খাদ্য বা পানীয় তিনি গ্রহণ করেননি। এমনকি পানিও না। স্যালাইনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুষ্টি শরীরে পাঠিয়ে চালু রাখা হয়েছে তার হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ক।

গত মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক রায়ে পূর্ব ইম্ফলের জেলা ও দায়রা বিচারক এ গুণেশ্বর শর্মা বলেন, ‘চানুর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্রমাণ নেই। তাছাড়া আত্মহত্যার জন্য তিনি অনশন করছেন না। রাজনৈতিক আন্দোলন চালাচ্ছেন চানু।’ এরপরই তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন বিচারক।

অবশ্য তার স্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব রাজ্যের হাতেই দেন বিচারক শর্মা। তাকে নলের সাহায্যে খাওয়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই চিকিৎসা করাতে অস্বীকৃতি জানান মণিপুরের এই মানবাধিকার কর্মী।






মন্তব্য চালু নেই